ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা: ইসরায়েলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চায় ইউরোপের ৩ দেশ
গাজাগামী ত্রাণবহর ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও স্পেন।
এদিকে আটক সব বিদেশি কর্মীদের ইতোমধ্যে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরায়েল।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমরস্টেইন ফ্লোটিলার সব বিদেশি কর্মীকে ইসরায়েল থেকে ফেরত পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘গাজায় নৌ অবরোধ ভাঙার কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেবে না ইসরায়েল।’
Global Sumud Flotilla activists illegally detained by Israel arrived in Istanbul, where many were reunited with their families, on May 21 pic.twitter.com/XzmT4Ai8Xf
— TRT World (@trtworld) May 21, 2026
কর্মীদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়া সংস্থা ‘আদালাহ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ত্রাণবহরের অধিকাংশ সদস্যকে ফেরত পাঠানোর জন্য ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দর নেওয়া হয়। সেখান থেকে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হচ্ছে।
ইতোমধ্যে তুরস্কের কর্মীদের একটি দল ইস্তাম্বুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।
মিসরের কর্মীদের তাবা সীমান্তে এবং জর্ডানের কর্মীদের আকাবা সীমান্তে পাঠানো হয়েছে।
আদালাহ জানায়, আটকের পর ফ্লোটিলার কর্মীদের গাজার কাছে নেগেভ মরুভূমিতে একটি কারাগারে রাখা হয়েছিল।
ככה אנחנו מקבלים את תומכי הטרור
Welcome to Israel 🇮🇱 pic.twitter.com/7Hf8cAg7fC— איתמר בן גביר (@itamarbengvir) May 20, 2026
গতকাল বুধবার ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
এতে দেখা যায়, ত্রাণবহর থেকে কর্মীদের হাত বেঁধে রীতিমত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে আনা হয়। এ সময় তাদের মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়।
ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইসরায়েলে স্বাগতম।’
গাজায় আরোপিত অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে তুরস্ক থেকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অধীনে প্রায় ৫০টি জাহাজে যাত্রা করেছিলেন বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীরা।
সোমবার ফ্লোটিলাটি সাইপ্রাসের পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করলে সশস্ত্র ইসরায়েলি বাহিনী পথরোধ করে এবং ৪৩০ জনের বেশি কর্মীকে আটক করে।
You knowingly caused harm to our State in this disgraceful display - and not for the first time.
You have undone tremendous, professional, and successful efforts made by so many people - from IDF soldiers to Foreign Ministry staff and many others.
No, you are not the face of… https://t.co/KOj6fhpyM7— Gideon Sa'ar | גדעון סער (@gidonsaar) May 20, 2026
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখায় বিভিন্ন দেশ।
আজ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইসরায়েলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরায়েলকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রধানকে চিঠি লিখেছেন।
ইসরায়েলি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং প্রয়োজনে ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির আংশিক বা পুরোটা স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
২০০০ সালের জুনে সই করা ওই চুক্তিতে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের শর্ত রয়েছে।
যা জানালেন ফ্লোটিলার কর্মীরা
আইনি সংস্থা ‘আদালাহ’ জানিয়েছে, কর্মীদের মধ্যে অন্তত দুজন রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও কয়েকজনের হাড় ভেঙে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ করেছেন দুই কর্মী।
ইতালীয় সাংবাদিক আলেসান্দ্রো মান্তোভানি এএফপিকে বলেন, ‘তারা আমাদের মারধর করেছে। লাথি মেরেছে, ঘুষি মেরেছে এবং চিৎকার করে বলেছে “ইসরায়েলে স্বাগতম”।’
🗣️ ‘Then we were beaten; I also saw women being struck. This happens because Israel is protected by the governments of half of Europe, including our own’
Italian journalist Alessandro Mantovani says Israeli forces beat and handcuffed activists after intercepting Gaza-bound… pic.twitter.com/4YGSQil8oj— Anadolu English (@anadoluagency) May 21, 2026
২০০৭ সাল থেকে গাজার সব প্রবেশ পথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তারা। এরপর থেকেই খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটে ভুগছে গাজাবাসী।
গত মাসে গ্রিস উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আরেকটি ত্রাণবহর আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল। সে সময় অধিকাংশ কর্মীকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।