উত্তরাঞ্চলে বাজেট ছাপিয়ে গরুর দাম, হতাশ নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই দেশের উত্তরাঞ্চলের পশুর হাটগুলোতে গরুর দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। বাজেট অনুযায়ী পছন্দের গরু কিনতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে হাট ছাড়ছেন।
ব্যবসায়ী ও হাটসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে এসব গরুর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সদর উপজেলার আরিফুল ইসলাম (৩২) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট গোলাপগঞ্জ বাজারে গিয়েছিলাম। বাজেটের মধ্যে একটিও পছন্দের গরু পাইনি।’
বাজেট অনুযায়ী গরু কিনতে আগামী দিন আবারও হাটে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান ঠাকুরগাঁওয়ের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম (৫৫)।
তিনি বলেন, এ বছর বাজেট ছিল ৮০ হাজার টাকা। ভেবেছিলাম বড় সাইজের একটা গরু কিনবো। কিন্তু হাটে এসে দেখি এই দামে ১২০ কেজি মাংস পাওয়া যায়—এমন কোনো গরু নাই। দাম অনেক বাড়তি।’
পরে বাধ্য হয়ে প্রায় ১০০ কেজি মাংস হবে—এমন সাইজের একটি গরু ৮৫ হাজার টাকায় কিনেছেন মনিরুল ইসলাম।
গত শনিবার থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের গরুর দাম সবচেয়ে বেড়েছে। প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কেজি মাংস পাওয়া যাবে এমন মাঝারি গরু বিক্রি হচ্ছে ৮৫ হাজার থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায়। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা বেশি।
ছোট আকারের গরুর দাম ৫৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে ১২০ কেজির বেশি মাংস দেবে এমন বড় গরুর দাম তুলনামূলক কম ছিল।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরগুলোতে বড় আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকলেও এবার মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেড়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ বছর মাঝারি আকারের গরু বেশি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ভারতীয় গরু না থাকাও দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খোচাবাড়ি হাটের গরু ব্যবসায়ী মো. দুলাল (৪৬) বলেন, ‘ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও আজ মঙ্গলবার খোচাবাড়ি হাট থেকে ৪৭টি গরুবাহী ট্রাক ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রাকে ১২ থেকে ১৮টি করে বিভিন্ন আকারের গরু ছিল।’
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ফকিরগঞ্জ হাটের ইজারাদার সাজ্জাদ সেলিম (৫৬) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগের হাটের তুলনায় এবার প্রতি গরুর দাম হঠাৎ করে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।’
তার ভাষ্য মতে, গত বছরের তুলনায় এবার বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট থেকে বেশি গরু কিনে নিচ্ছেন, যা বাজারে চাপ তৈরি করছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দিনাজপুরে এবার চাহিদা ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি গরু। বিপরীতে লালন-পালন করা হয়েছে চার লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি গরু।
ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৮ হাজার ৪৪৩টির চাহিদার বিপরীতে ৯৫ হাজার ৪৩৬টি এবং পঞ্চগড়ে এক লাখ ৩ হাজার ৪৫০টির চাহিদার বিপরীতে লালন-পালন করা হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৪৫০টি গরু।
সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও আন্তজেলা গরু পরিবহন ও চাহিদার চাপের কারণে ঈদের শেষ মুহূর্তে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।