পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে আইনস্টাইনকে যা লিখেছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ব যখন পারমাণবিক অস্ত্রের দৌড়ে ক্রমেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছিল, তখন বিজ্ঞানীদের একাংশ সেই ঝুঁকি নিয়ে সরব হতে শুরু করেন।

১৯৫৫ সালের ৫ এপ্রিল পদার্থবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকির উল্লেখ করে একটি চিঠি লেখেন দার্শনিক ও গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল।

চিঠিতে রাসেল বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে বিশ্বকে সতর্ক করার উদ্যোগ নেন এবং একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে আইনস্টাইনের সমর্থন চান।

আজ থেকে ৭১ বছর আগে লেখা ওই চিঠিটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হলো:

৫ এপ্রিল, ১৯৫৫
৪১, কুইনস রোড
রিচমন্ড, সারে

প্রিয় আইনস্টাইন,

বিজ্ঞানীদের মধ্যে যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব আছে, তা কাজে লাগানোর বিষয়ে আমি অনেক ভেবেছি এবং অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয়, প্রথমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কমিউনিস্ট ও নন-কমিউনিস্টসহ বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি আসা উচিত। সেখানে যুদ্ধ হলে কত ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। আমি এমন একটি বিবৃতির খসড়া চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করেছি। আশা করি, আপনি এতে সই করবেন।

যাদের কাছে সই চাওয়া হবে, তাদের একটি তালিকাও দেওয়া আছে। যদি যথেষ্ট সই পাওয়া যায়, তাহলে পরের ধাপে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলনও করা যেতে পারে। এই সম্মেলনটি সই করা ব্যক্তিদের উদ্যোগে হবে এবং সেখানে এই খসড়ার ভিত্তিতে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে। আমার মনে হয়, এতে করে সরকার ও সাধারণ মানুষ—উভয়ই বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারবে।

পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে লেখা বার্ট্রান্ড রাসেলের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

সব দিক ভেবে আমার মনে হয়েছে, এই পর্যায়ে আর্নল্ড টয়েনবির (ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ) মতো অন্য ক্ষেত্রের মানুষদের না এনে বিষয়টি শুধু বিজ্ঞানীদের মধ্যেই রাখা ভালো। বিজ্ঞানীদের একটি বিশেষ দায়িত্ব আছে, এবং তারা তা বোঝেনও। কারণ, তাদের কাজ থেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

আরও একটি কথা, পরিসর বড় হলে রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

আপনার বিশ্বস্ত,
বার্ট্রান্ড রাসেল

৫ এপ্রিল, ১৯৫৫
৪১, কুইনস রোড
রিচমন্ড, সারে

এই চিঠির কয়েক দিন পরই ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল মারা যান অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। তবে মৃত্যুর আগে তিনি ওই চিঠির জবাব দেন ও বিবৃতিতে সই করেন।

আইনস্টাইনের লেখা চিঠির জবাব। ছবি: সংগৃহীত

ওই বছরের ৯ জুলাই আইনস্টাইন, রাসেল, জুলিও কুরিসহ ১১ জন নোবেলজয়ীর সইসহ ‘রাসেল-আইনস্টাইন ঘোষণাপত্র’ শীর্ষক ওই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বছরের জুলাইয়ে রাসেল ও অন্যান্য বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে প্রকাশিত হয় ঐতিহাসিক ‘রাসেল-আইনস্টাইন ঘোষণাপত্র’, যা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী আলোচনার সূচনা করে এবং পরবর্তী সময়ে ‘পাগওয়াশ আন্দোলন’-এর ভিত্তি তৈরি করে।