দূষিত বাতাসের তালিকার শীর্ষ থেকে নামছেই না ঢাকা
দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় আজ বৃহস্পতিবারও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে তালিকার শীর্ষে রয়েছে এই শহর।
সকাল ১০টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বা বায়ুর মান সূচকের গড় স্কোর ছিল ২৮১, যা 'ভীষণ অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত।
রাজধানী ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ু কুর্মিটোলা এলাকার, যার স্কোর ৫৩৩। বায়ুর মানের ক্ষেত্রে এটি 'বিপজ্জনক'।
দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আজ ২৭৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো। ২১৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের শহর ক্রাসনোয়ারস্ক। ১৯৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা।
১৯১ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। বায়ুদূষণের তালিকায় নিয়মিত প্রথম সারিতে থাকা ভারতের দিল্লি ১৬৭ স্কোর নিয়ে রয়েছে নবম স্থানে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত দূষিত শহরের তালিকা প্রকাশ করে।
বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচকের তথ্য অনুযায়ী বোঝা যায়, একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতোটুকু নির্মল বা দূষিত।
আজ ঢাকার গড় বায়ুর মানের স্কোর ২৮১ হলেও কিছু এলাকার বায়ুর মান এরচেয়েও শোচনীয় পর্যায়ে। কুর্মিটোলা এলাকার স্কোর ৫৩৩, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট এলাকার স্কোর ৩৯৯, ধানমন্ডি এলাকার স্কোর ৩১৬, মিরপুরের দক্ষিণ পল্লবী এলাকার স্কোর ৩১৪। এসব এলাকার বায়ু 'বিপজ্জনক'।
আজ ঢাকার বায়ুর মানের পরিপ্রেক্ষিতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইরে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা, দূষিত বাতাস যেন ঘরে ঢুকতে না পারে তাই জানালা বন্ধ রাখা, বাইরে যেতে হলে সবসময় মাস্ক পরিধান করা এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা।
বায়ুর মানের ক্ষেত্রে বাতাসে একিউআই মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তখন এই বায়ুকে 'ভালো বায়ু' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বায়ুর মানের স্কোর ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে, সে বায়ুর গুণমানকে 'সহনীয়' বলে বিবেচনা করা হয়।
১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ হলে 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর', ৩০১-এর বেশি হলে 'বিপজ্জনক' বলা হয়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একিউআই সূচক পাঁচটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো— অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।
ঢাকার বাতাসে বর্তমানে পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত বাৎসরিক গড় সীমার চেয়ে অনেক সময় ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি থাকে।
ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ এখন একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে। এই শহরের বায়ুর গুণমান সাধারণত বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হলেও শীতকালে চরম অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো—ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলো।
স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।