মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রত্যাশায় রাশ টানলেন ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

দিনের শুরু থেকেই বইছিল সম্ভাব্য সুখবরের সুবাতাস। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতীয় গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, ‘আমার ধারণা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা বিশ্ব কিছু ভালো খবর জানতে পারবে।’

ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর আশায় বুক বেঁধেছিল শান্তিকামী বিশ্ববাসী। আশা, এবার হয়তো সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির ফর্মুলা খুঁজে পেয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরান-জেরুসালেম। 

তবে দিন শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই আশাবাদে রাশ টেনে ধরেন। 

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে বলেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের বলেছি, তারা যেন তাড়াহুড়া করে কোনো চুক্তিতে সম্মতি না দেয়।’ 

হাতে যথেষ্ঠ সময় আছে বলে মত দেন রিপাবলিকান নেতা। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

‘চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া, সবার অনুমোদন পাওয়া এবং সই হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্লকেড (অবরোধ) পুরোপুরি চালু থাকবে’, যোগ করেন তিনি। 

গত ৮ এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মাঝে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আলোচনার মধ্যে দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনের ঐকান্তিক চেষ্টা চালান তারা। 

তবে তাদের এই প্রচেষ্টার মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে ইরান। অপরদিকে, ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।  

এর আগে ট্রাম্প নিজেও আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন। 

সামাজিক মাধ্যমের অপর এক বার্তায় তিনি বলেন, চুক্তির বেশিরভাগ বিষয় নিয়ে দরকষাকষি শেষ হয়েছে। এখন এগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও একাধিক অন্যান্য দেশের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া বাকি। 

রুবিও  আরও জানান, চুক্তির মাধ্যমে ‘এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার মাধ্যমে আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবো এবং বিশ্বকে আর কখনো ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভীত বা উদ্বিগ্ন হতে হবে না।’

পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ও ট্রাম্প একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেটা হলো, ‘চূড়ান্ত চুক্তি এমন হতে হবে যাতে ইরান আর কোনো পারমাণবিক হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে।’

নেতানিয়াহুর বরাত দিয়ে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি দরকষাকষির সময় কিছু দীর্ঘ সময়ের দাবি থেকে সরে আসবেন না। এই দাবিগুলো হলো ইরানের পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করা এবং ইরানের ভূখণ্ড থেকে সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইউরেনিয়াম অপসারণ। 

‘এসব শর্ত মানা না হলে তিনি চুক্তিতে সম্মতি দেবেন না’, যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।  

রুবিওর বক্তব্যের পর চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ‘সুখবরকে’ স্বাগত জানান ইউরোপের নেতারা। 

ইরানের কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, একটি খসড়া চুক্তি আলোচনার টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

তবে তারা দাবি করেন, এ মুহূর্তে চূড়ান্ত হতে যাওয়া চুক্তিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পরমাণু প্রকল্প বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এই দুইটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ৬০ দিনের জন্য পেছানো হয়েছে। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টিভিকে জানান, ইরান এমন নিশ্চয়তা দিতে রাজি, যে আমরা কখনো পরমাণু অস্ত্র বানাবো না।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের বেড়াজালে দেশের বাইরে আটকে থাকা তেহরানের সম্পদের কিছু অংশ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধও তুলে নিতে রাজি হয়েছে তারা। 

বিনিময়ে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং তা ইরানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। 

ফার্স আরও জানায়, ‘দরকষাকষি চলাকালে ইরানের তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিকেল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে দেওয়া হবে, যাতে ইরান তার পণ্যগুলো স্বচ্ছন্দে বিক্রি করতে পারে।’