বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৪ শতাংশ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বড় আকারে কমে এসেছে।
এ সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশের রাজস্ব ও বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর চাপ বাড়ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইআরডি জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্প সহায়তা, বিশেষ করে ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় এ পতন দেখে দিয়েছে।
ইআরডির বৈদেশিক সহায়তা মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ১০ মাসে প্রকল্প সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতি কমে ২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।
একইভাবে অনুদানের প্রতিশ্রুতি আগের বছর যেখানে ছিল ৩৫৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এ বছরে অনুদানের প্রতিশ্রুতি অর্ধেকের বেশি কমে ১৫৬ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে, প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ের গতি এ ১০ মাসে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলে মোট ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একইসময়ে ছিল ৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।
ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় পুরোটাই (৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার) ছিল প্রকল্প সহায়তা। মোট ছাড়ের মধ্যে অনুদান ছিল খুবই কম।
একইসময়ে বাংলাদেশের বার্ষিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার ও সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
আগের অর্থবছরের একইসময়ে ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয় ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।