ঢাকার বাতাস আজ ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় আজ মঙ্গলবার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। সকাল ৮টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বা বায়ুর মান সূচকে গড় স্কোর ছিল ২৪২, যা ভীষণ অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। 

রাজধানী ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর মান পাওয়া গেছে কুর্মিটোলা এলাকায়, যেখানে স্কোর ২৮৮।

দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ৩১৪ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। ২৫৮ স্কোর নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো। 

ঢাকার পরে ২১৬ স্কোর নিয়ে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়। ১৮৭ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটর।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত দূষিত শহরের তালিকা প্রকাশ করে।

বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচকের তথ্য অনুযায়ী বোঝা যায়, একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতোটুকু নির্মল বা দূষিত।

আজ ঢাকার বায়ুর মানের পরিপ্রেক্ষিতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইরে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা, দূষিত বাতাস যেন ঘরে ঢুকতে না পারে তাই জানালা বন্ধ রাখা, বাইরে যেতে হলে সবসময় মাস্ক পরিধান করা এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা।

বায়ুর মানের ক্ষেত্র বাতাসে একিউআই মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তখন এই বায়ুকে 'ভালো বায়ু' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বায়ুর মানের স্কোর ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে, সে বায়ুর গুণমানকে 'সহনীয়' বলে বিবেচনা করা হয়।

স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ হলে 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর', ৩০১-এর বেশি হলে 'বিপজ্জনক' বলা হয়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো— অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন।

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ু দূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। ঢাকার বায়ুর গুণমান সাধারণত বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হলেও শীতকালে চরম অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।

২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো—ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ কাজের ধুলো।