রাজশাহীর মানুষ এত বিলাসিতা করে, এটা জানতাম না: শিক্ষামন্ত্রী
রাজশাহীর সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘খুব মনে থাকবে আপনাদের রাজশাহীর কথা। আগেও রাজশাহী আসতাম, এবারও আসছি অনেক দিন পরে। অপচয় কীভাবে করা যায়, কোন সূত্রে করা যায়, সবাইকে রাজশাহীকে মডেল (হিসেবে) নিতে হবে।’
আজ শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ‘আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মিলন বলেন, ‘রাজশাহীতে কী বিরাট ফ্লাইওভার বানিয়ে রেখেছে। আমরা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, হাসপাতালে টাকা দিতে পারি না, রাজশাহীর মানুষ এত বিলাসিতা করে, এটা জানতাম না। এবার শিখে গেলাম। এই মডেল মিউজিয়ামে রাখতে হবে। যেখানে প্রয়োজন নাই, সেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন।’
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা ভাবছে যে, তারা আগের মতো মব করলে, ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে “হা হা” দিলে আমি বোধ হয় ঘাবড়ে যাব, না তো! যারা লেখাপড়া করবে না, যারা টিকটক করবে, যারা লেখাপড়া করতে চায় না, তাদের নিয়ে তো আমি চিন্তা করছি না! আমি চিন্তা করছি যারা লেখাপড়া করবে। মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে, আরে ভাই! পদত্যাগ তো আমার করতেই হবে, যদি না আমি পরীক্ষা ঠিকমতো নিতে পারি। তাদের তো চিন্তা করতে হবে না, তারা পরীক্ষা ঠিকমতো দিক। তাদেরটা যদি ঠিকমতো করতে না পারি, সেটা তো আমার দুর্বলতার প্রমাণই হবে।’
প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন যদি এইভাবে পড়তেই থাকে, ওরাও ফেল আমিও ফেল। কারণ আমি যদি এটাকে ডেভেলপ না করতে পারি, তাহলে আমাকেও তো উনি বাদ দিয়ে দেবেন।’
‘প্রধানমন্ত্রী, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে, তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে। তিনি জানেন এই রাষ্ট্র গঠন করতে হলে কী করতে হবে এবং তিনি করে ছাড়বেন। আর আমরা যদি সহযোগিতা না করি, আমাদেরও পাস-ফেল রয়েছে। অতএব আমরাও এবার ছাড়বো না। শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করেই ছাড়বো,’ যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষকদের সমালোচনা করে মিলন বলেন, ‘আপনি স্কুলের হেডমাস্টার কচুয়ায়, ছেলে-মেয়েদের পড়ান কুমিল্লায়, আপনি থাকেন কুমিল্লায়। আপনি নিজের ছেলে-মেয়েকে নিজের স্কুলে পড়ান না, এই আত্মবিশ্বাস যার নেই, সে কি ভালো শিক্ষক হতে পারে, বলুন!’
‘আবার দেখবেন দাবি ওঠে যে, আমরা ঢাকা ইউনিভার্সিটির-বুয়েটের প্রফেসর, আমরা ঢাকা কলেজের প্রফেসর, আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিতে হবে। আরে ভাই, আপনার প্রতিষ্ঠানে তো অ্যাডমিশন টেস্ট হয়েছিল! আপনার ছেলে আপনার প্রতিষ্ঠানে অ্যাডমিশন টেস্টে টেকে না, তাহলে আপনি কি যোগ্য শিক্ষক হয়েছেন? আস্তে বললাম, জোরে বললে যদি মাইন্ড করে! মাইন্ড করতেও তো পারে,’ বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন গ্রেডিং শুরু করেছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক এক মাসের মধ্যে বলে বসলেন, ব্যর্থ মন্ত্রী। পদত্যাগ করা উচিত। ব্যর্থতা কারা বলে জানেন, যারা হতাশাগ্রস্ত। ৩০ দিন না যেতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক আমাকে ব্যর্থ বলে দেন, উনি কতটা ফ্রাসট্রেটেড দেখেছেন! উনি নিজের প্রতিষ্ঠানে নিজের ছাত্র-ছাত্রীর খাতা ঠিকমতো দেখেন না, পড়ান না, এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং নেমে গিয়েছে।’
অতীতে জেলা স্কুল সেরা ছিল মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন গিয়ে দেখেন, জেলা স্কুলের দায়িত্বে ডিসি সাহেব। তার ছেলে-মেয়েরা ঢাকায় থাকে, ঢাকায় লেখাপড়া করে। আমার মনে এটাও বাধ্যতামূলক করে দেওয়া উচিত জনপ্রশাসন থেকে, যারা জেলার দায়িত্বে থাকবেন, তাদের ছেলে-মেয়েদের জেলা স্কুলেই পড়তে হবে।’
‘এগুলো খুব মাইক্রোস্কপিক ব্যাপার, কিন্তু এগুলো আমাদের দেখতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।