নকলের চল্লিশা-দাফন-কাফন সব করেছিলাম, পুনর্জন্ম নেবে ধারণায় ছিল না: শিক্ষামন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

পরীক্ষায় নকল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম দূর করতে সরকার আইন পরিবর্তন করার কথা ভাবছে।

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে পাবলিক পরীক্ষার হলে খাতায় নকল করার সময় যদি শিক্ষক কাউকে ধরেন, কেবল তখনই (পরীক্ষার্থী) তাকে বিচারের আওতায় আনা যেত। নকল করার সময় ধরা হয়নি, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।’

‘কারণ আগের দিনে মানুষ সিনসিয়ার ছিল। শিক্ষকদের সামনে নকল করবে, এই সাহসই তো কারও ছিল না, আইনের প্রয়োজন হবে কেন! তবুও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই আইনটা করেছিলেন বলেই আমি ২০০২-০৬ এ এসে নকলের চল্লিশা খাওয়া, দাফন-কাফন করা সব করেছিলাম। হয়েছিল তখন। এই নকল পুনর্জন্ম নেবে, এটা কিন্তু আমার ধারণায় ছিল না,’ যোগ করেন তিনি।

নকলের মডেল পরিবর্তন হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এখন নকল শুরু হয়েছে ডিজিটাল। এখন নকলের সহযোগিতা করছেন শিক্ষকরা। কীভাবে? খাতায় উত্তর দিয়ে দিচ্ছেন। নম্বর বাড়িয়ে দিলে নকল করার কোনো প্রয়োজন আছে? (শিক্ষার্থী) কী লেখে জানেন? ওই প্রশ্নপত্রে যা থাকে, ওইটাই খাতায় লিখতে থাকে—মানে খাতা ভর্তি লেখা থাকতে হবে। উত্তরের সাথে কোনো সম্পর্ক থাকতে হবে না।’

‘২০২৫ সালে দেখা গেছে, শিক্ষকরা খাতায় বাড়তি নম্বর দেয়নি এবং নকলের সহযোগিতা তেমন একটা করেনি। ফলাফল খারাপ হলো। তাহলে এটা প্রমাণিত যে, আমাদের মানসম্মত শিক্ষা এখন আর নেই। সেই জায়গাতে যেতে হবে।’

এদিন ইউনেস্কো কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি শিক্ষায় ৩০০ টাকা খরচ করি, তারা দেন ১০০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ বাজেট কমিয়ে অর্ধেক করে ফেললো। যেখানে আমাদের ১০০ মিলিয়ন দিতো, সেখানে তারা ৫০ মিলিয়ন দিচ্ছে। আমি তাদের সঙ্গে সমঝোতা করছিলাম যে, আমরা কীভাবে তাদের কাছ থেকে টাকা বাড়াতে পারি।’

‘তারা বললো, তোমরা আগে যে টাকা নিয়েছো বিগত দিনগুলোতে, কী করেছো সে হিসাব দাও! টাকা তো আমরা দিয়েছিলাম,’ যোগ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী এর কোনো জবাব দিতে পারেননি উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি মানোন্নয়ন না হয়, তাহলে আমাদের অনুদান দেবেন কেন?’

শিক্ষকরা কী শেখাবেন সেটাতেই আগামীতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যোগ করেন তিনি।

আইন পরিবর্তন করার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্সামিনাররা খাতা ঠিকমতো দেখেছেন কি না এটা তো আমি জানি না! সে জন্য আমি বলেছি যে, এই আইনে খাতা রিএক্সাজামিন করার প্রভিশন থাকতে হবে। আমি র‌্যানডম স্যাম্পল নিয়ে দেখব, খাতা দেখার পদ্ধতি ঠিক আছে কি না।’

‘আমার কোন এক্সামিনার ভালো, কোন এক্সামিনার ভালো না, কোন এক্সামিনারকে রাখা যাবে না—সেখানে রিওয়ার্ড নেই, পানিশমেন্ট নেই, ইভ্যালুয়েশনও নেই, এভাবে কি একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে?’

শিক্ষকদের উদ্দেশে মিলন বলেন, ‘আমি বলছি না আপনারা ভুল করছেন। আমি বলছি, আপনারা ভুল করছেন সিস্টেমের কারণে। জবাবদিহিতা ছিল না।’

শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোনো শিক্ষক মনে করেন, আমার কাছে খাতা আসলে ছেলেদের খবর আছে। আবার কোনো কোনো শিক্ষক বলে আমার কাছে খাতা আসলে সবাই পাস করে। এটা কি হতে পারে? এটা হতে পারে না। আবার এই প্রতিযোগিতা ওই বোর্ড লেভেলেও হয়। রাজশাহী বোর্ড মনে করে আমি একটু বেশি পাস করিয়ে দেই। ঢাকা বোর্ড মনে করে, না আমরা ঐতিহ্যবাহী বোর্ড, আমরা সঠিকভাবে নিরীক্ষণ করব খাতা। কুমিল্লা বোর্ড বলে আমরা ঐতিহাসিক, আমরা সব সময় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করব। নতুন বোর্ড বলে, আমাদের বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন কম হয়, আমরা একটু বাড়তি নম্বর দেবো।’

‘মাদ্রাসা বোর্ড তো বরাবরই হাইয়েস্ট থাকে প্রতিযোগিতায়। টেকনিক্যাল বোর্ডের তো প্রতিযোগিতা আছে কি না জানারই দরকার নেই, সবাই ধরে নেয় যে মাদ্রাসা বোর্ড আর টেকনিক্যাল বোর্ডের পাসের সবচেয়ে বেশি হবে।’