পেসারদের এলোমেলো বোলিং ও ক্যাচ মিসের ফায়দা তুলছে পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে চারশ ছাড়াল বাংলাদেশের পুঁজি। তবে ব্যাটারদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতের সঙ্গে তাল মেলাতে পারলেন না বোলার-ফিল্ডাররা। বিশেষ করে, তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানা ভুগলেন লাইন ও লেংথ ঠিক রাখতে। পাশাপাশি স্লিপে একটি করে ক্যাচ ছাড়লেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম।

বাংলাদেশের এলোমেলো বোলিং ও ক্যাচ মিসের পুরো ফায়দা তুলে নিয়ে দারুণ জবাব দিচ্ছে পাকিস্তান। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯ রান। হাতে ৯ উইকেট নিয়ে তারা পিছিয়ে আছে আরও ২৩৪ রানে। চা বিরতির আগে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস থামে ৪১৩ রানে। এদিন ১১২ রান যোগ করতে শেষ ৬ উইকেট হারায় তারা।

অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ওপেনার আজান আওয়াইস সেঞ্চুরির সুবাস নিয়ে খেলছেন ৮৫ রানে। তার ১৩৩ বলের ইনিংসে চার ১২টি। তার সঙ্গী আরেক অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজল  অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে। তিনে নেমে ৭৮ বল মোকাবিলায় তিনি মেরেছেন ছয়টি চার। তাদের অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটির রান ১৪৫ বলে ৭৩।

এর আগে প্রায় ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ১৩৮ বলে ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে পাকিস্তান। এই জুটি ভাঙে আরেক ওপেনার ইমাম-উল-হকের বিদায়ে। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিলেও পাল্টায়নি আম্পায়ারের দেওয়া সিদ্ধান্ত। বরং একটি রিভিউ নষ্ট করে ৭২ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৪৫ রানে আউট হন ইমাম।

বাঁহাতি এই ব্যাটার অবশ্য আরও আগেই ফিরতে পারতেন। অষ্টম ওভারে ইবাদতের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। ঝাঁপিয়ে পড়েও বল মুঠোয় জমাতে পারেননি তৃতীয় স্লিপে থাকা জয়। তখন ২৩ রানে ব্যাট করছিলেন ইমাম। পরের ওভারে নাহিদের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত দিলেও রিভিউ নিয়ে টিকে যান তিনি। শেষবেলায় তাসকিনের বলে ফজল জীবন পান ২৮ রানে। প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করায় তার ক্যাচও মুঠোয় নিতে ব্যর্থ হন দ্বিতীয় স্লিপে থাকা সাদমান।

বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্তর আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি পেসাররা। লাইন ও লেংথে ধারাবাহিক না থাকায় উইকেটশূন্য তারা। ফলে ইনিংসের শুরুতে নিয়মিত বাউন্ডারি আনতে পেরেছে পাকিস্তান। তাসকিন ও ইবাদত ৮ ওভারে যথাক্রমে ৪০ ও ৩৮ রান দিয়েছেন। নাহিদের ৯ ওভারে এসেছে ৪৭ রান।

মিরাজকে বোলিংয়ে নেওয়া হয় ১৬তম ওভারে। তিনি উদ্বোধনী জুটি ভেঙে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু দিলেও পরে আবার জমে যায় আজান ও ফজলের জুটি। ১৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১ উইকেট নিতে মিরাজের খরচা ৩৭ রান। ক্রিজে দুই বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম বল হাতে পান ৩১তম ওভারে। ৫ ওভারে ১২ রান দিয়ে তিনিও উইকেটশূন্য।