ভিএআরে কেন ইরানের শেষ মুহূর্তের গোলটি বাতিল হলো?
বিশ্বকাপে আরও একবার আলোচনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহুর্তে ইরানের নাটকীয় গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ায় ফের তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শনিবার সিয়াটল স্টেডিয়ামে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ইরানের দারুণ আনন্দ ভিএআরে খানিকের মধ্যে রূপ নেয় এক বুকভাঙ্গা হতাশায়।
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের ৯৩ মিনিটে সোজা খলিলজাদাহর করা সম্ভাব্য জয়সূচক গোলটি ভিএআরে নাটকীয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। এই ড্রয়ে মিশর দ্বিতীয় হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলেও ঝুলে আছে ইরানের ভাগ্য। গোলটি হলে দ্বিতীয় হয়ে ইরান চলে যেত নকআউটে।
ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল নিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে আলগা বল পেয়ে খলিলজাদাহ যখন জোরালো শটে গোল করেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার খুশিতে নিজের জার্সি খুলে ফেলেন এবং নিয়ম ভেঙে একটি হলুদ কার্ডও দেখেন।
তবে এই আনন্দ বেশি সময় টেকেনি। পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াককে গোলের আগের পরিস্থিতি ভিডিওতে খতিয়ে দেখার জন্য ডাকা হয়।
অফসাইডের নিয়ম যেভাবে খাটানো হলো
এই সিদ্ধান্তটি বোঝার মূল চাবিকাঠি হলো—চূড়ান্ত শট নেওয়ার সময় নয়, বরং ঠিক যে মুহূর্তে সতীর্থের পা বা মাথা ছুঁয়ে বলটি আসে, ঠিক সেই মুহূর্তেই অফসাইড ধরা হয়। ফিফার ১১ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, সতীর্থের বল স্পর্শ করার প্রথম মুহূর্তটি দেখেই অফসাইডের সময় ঠিক করা হয়।
ম্যাচে ঠিক যা ঘটেছিল: মিশরের বক্সের ভেতর একটি দূরপাল্লার উঁচু ফ্রি-কিক ভেসে আসে। বলটি নিচে নামার সময়, বক্সের মাঝখানে একজন ইরানি খেলোয়াড় গোলরক্ষকের সঙ্গে বলের দখল নিতে উঁচুতে লাফিয়ে ওঠেন। তার মাথায় লেগে বলটি সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের আরও ভেতরে চলে যায়।
ঠিক সেই সেকেন্ডে, অর্থাৎ যখন বলটি ফ্লিক করা হয়েছিল, তখনই অফসাইডের লাইন ঠিক হয়ে যায়।
মিশরের ডিফেন্ডাররা বলটি দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ইরানের দুজন স্ট্রাইকার ততক্ষণে মিশরের শেষ ডিফেন্ডারকে পার করে অফসাইড পজিশনে গোললাইনের একদম সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
শুধু অফসাইড জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাটা অপরাধ নয়, কিন্তু বলটি তাদের দিকে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি নিয়মের লঙ্ঘন হয়ে দাঁড়ায়।
ফিফার নিয়ম বলে, অফসাইড পজিশনে থাকা কোনো খেলোয়াড় যদি বল নেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষকে বাধা দেয় কিংবা প্রতিপক্ষের বল খেলার ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, তবেই তাকে দোষী ধরা হবে।
এখানে অফসাইডে থাকা ইরানের ওই খেলোয়াড়রা সরাসরি খেলায় জড়িয়ে পড়েন এবং গোললাইনের সামনে এক হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি করেন। এর ফলে মিশরের ডিফেন্ডাররা বলটি ক্লিয়ার করতে পারেননি।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু অফসাইড খেলোয়াড়রা সুবিধা নিয়ে গোললাইনের সামনে ওই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিলেন, তাই খেলার ওই অংশটি শুরু থেকেই অবৈধ ছিল। স্বভাবতই রেফারির কাছে খলিলজাদাহর গোলটি বাতিল করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।