‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায়’ জড়িত ছিল ব্রাজিল-মেক্সিকো ও মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা, দাবি মিলের
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সমালোচনা শুরু হয়, সেটি ছিল একটি পরিকল্পিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’, এমনই দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। তার অভিযোগ, এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে ব্রাজিল ও মেক্সিকোর সরকার, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এর সঙ্গে জড়িত ছিল।
রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলে বলেন, বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা ও দেশটির সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে, তা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে সমন্বিত একটি প্রচারণার অংশ।
মিলে বলেন, ‘এটি ছিল এমন প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষের কাজ, যারা স্বাধীনতার ধারণার সফলতা দেখতে চায় না।’
তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রচারণায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্রাজিল। তার অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার পুরো অভিযানের অর্থায়নের প্রায় ২৫ শতাংশ বহন করেছে।
পরে নিজের অভিযোগের পরিধি আরও বাড়িয়ে মিলে বলেন, মেক্সিকো সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এই প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার মতে, বিষয়টি শুধু ফুটবলকে ঘিরে ছিল না; বরং তার প্রশাসনের রাজনৈতিক আদর্শের বিরোধিতারই বহিঃপ্রকাশ।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব অভিযোগের পক্ষে মিলে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিছু সমর্থকের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষেও কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
তবে মিলে'র অভিযোগের বিষয়ে ব্রাজিল, মেক্সিকো কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।