এমপাসির দেয়াল ভেঙে কলম্বিয়াকে নকআউটে তুললেন মুনোজ
ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি হয়ে উঠছিলেন যেন অপ্রতিরোধ্য দেয়াল। বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন কলম্বিয়ার শট। চোয়াবদ্ধ দৃঢ়তায় পর্তুগালের পর কলম্বিয়ার বিপক্ষেও ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ডিআর কঙ্গো। শেষ পর্যন্ত বাধার প্রাচীর ভেঙে দানিয়েল মুনোজ কলম্বিয়ানদের ভাসান আনন্দে।
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে ৭৬ মিনিটে পাওয়া গোলে জয় নিশ্চিত করে নকআউটে পা রাখে কলম্বিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লাতিন আমেরিকার দেশ। খেলার চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। লুইস সুয়ারেজের শট ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক এমপাসি ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে ফাঁকা পোস্টে শট নিতে ব্যর্থ হন মুনোজ; তার শটটি সাইড-নেটিংয়ে লাগে। এর দুই মিনিট পর মুনোজ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
প্রথমার্ধে কলম্বিয়া একের পর এক আক্রমণ করলেও ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক এমপাসি প্রথমার্ধেই ৫টি দুর্দান্ত সেভ করেন। হামেস রদ্রিগেস, লুইস দিয়াস এবং পুয়ের্তার নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ করে দেন তিনি। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গো মূলত রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল। প্রথমার্ধে তাদের বল দখল ছিল মাত্র ২৫%। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও কলম্বিয়া চাপ বজায় রাখে। ৫০ মিনিটে হামেস রদ্রিগেসের পাস থেকে লুইস দিয়াসের নেওয়া নিচু শট এমপাসি তার পা দিয়ে চমৎকারভাবে রুখে দেন।
ম্যাচের গতি বাড়াতে ৫৮ মিনিটে হামেস রদ্রিগেসকে তুলে নিয়ে হুয়ান ফার্নান্দো কোয়ান্তেরোকে মাঠে নামান কলম্বিয়ার কোচ। এই পরিবর্তনটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। মাঠে নামার ঠিক ১৮ মিনিট পর, অর্থাৎ ৭৬ মিনিটে কোয়ান্তেরোর তৈরি করে দেওয়া বল থেকে ডেডলক ভাঙেন মুনোজ। লেরমার কাছ থেকে বল পেয়ে কোয়ান্তেরো চমৎকার এক পাস বাড়ান কর্ডোবার উদ্দেশ্যে। কর্ডোবা বলটি মুনোজের দিকে ঠেলে দিলে প্রথম স্পর্শেই নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই ক্রিস্টাল প্যালেস ডিফেন্ডার। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের টানা ১০ ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখল কলম্বিয়া।
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লুইস দিয়াস আরও দুবার বল জালে জড়িয়েছিলেন। ৭৯ মিনিটে কোয়ান্তেরোর পাস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে গোল করলেও রেফারির বাঁশিতে ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। এর ঠিক এক মিনিট পরেই লেরমার পাস থেকে বল পেয়ে আবার গোল করেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার, কিন্তু এবার লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় আবারও হতাশ হতে হয় তাকে।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ডিআর কঙ্গো। ৯০ মিনিটে এমবুকুর দূরপাল্লার একটি জোরালো শট কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ভার্গাস আঙুল ছুঁইয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন, যা ছিল পুরো ম্যাচে ভার্গাসের প্রথম ও অন্যতম সেরা সেভ। অতিরিক্ত সময়ে (৯৩ মিনিটে) এমবমেবার একটি হেডও দারুণভাবে তালুবন্দি করেন ভার্গাস।
শেষ পর্যন্ত লেরমা ও পিকেলের হলুদ কার্ড দেখার মধ্য দিয়ে টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি ১-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।