আবুধাবি থেকে

এক ম্যাচে সেই ‘দুই হার’, এবার বদলা নিতে পারবে বাংলাদেশ?

একুশ তাপাদার
একুশ তাপাদার

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের স্মৃতি মনে থাকার কথা সবার। কিংসটনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য ছিলো এক ম্যাচে দুই হারের গল্প। একটা হলো ম্যাচে হার, আরেক হার মানসিকতায়।

আফগানদের বিপক্ষে নামার আগে সেবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার এক কঠিন সমীকরণ এসেছিলো বাংলাদেশের সামনে। রানরেট বাড়িয়ে ম্যাচ জিততে পারলে ইতিহাস তৈরি হয়ে যেত। বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশ সেই সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা করেনি সেভাবে, কেবল ম্যাচ জেতার জন্য খেলে জিততেও পারেনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া ওই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েন রশিদ খানরা। এবারও কঠিন এক সমীকরণের সামনে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে আফগানরা।

মঞ্চ আলাদা, প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। এশিয়া কাপে সুপার ফোরের আশা বাঁচাতে হলে এই ম্যাচ বাংলাদেশকে জিততেই হবে। তারপর অপেক্ষা করতে হবে শ্রীলঙ্কার কাছে আফগানদের হারের।

Bangladesh Cricket team
ছবি: একুশ তাপাদার

এবার এশিয়া কাপে আসার আগে লিটন দাসদের আত্মবিশ্বাস ছিলো তুঙ্গে। অনেকদিন পর মনে হচ্ছিলো টি-টোয়েন্টি দল একটা থিতু আদল পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মূল আসরে খেলতে নেমে কেমন যেন শঙ্কায় ভরা চারপাশ। হংকংকে প্রত্যাশিতভাবে হারালেও শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বড় হারে এশিয়া কাপের সম্ভাবনা সুতোর উপর ঝুলন্ত।

দক্ষতার ঘাটতির পাশাপাশি আবারও আলোচিত বাংলাদেশের কুঁকড়ে থাকা মানসিকতা। সংক্ষিপ্ত সংস্ক্রণের দাবির বিপরীতে গিয়ে আড়ষ্টতায় বন্দি থাকা। অন্য দিকে আফগানরা টুর্নামেন্টে একটা ম্যাচই খেলেছে, উদ্বোধণী সেই ম্যাচে হংকংকে যেভাবে খুনে মেজাজে হারিয়েছে তাতে তাদের ভেতর বড় কিছু করার তাগিদ ছিলো স্পষ্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবগুলো ভেন্যু এমনিতে আফগান ক্রিকেটারদের অলিখিত ঘরের মাঠ। এখানকার কন্ডিশন, পিচ সবই তাদের খুব ভালো জানা।

এই পরিস্থিতি রশিদ খানের দলই পরিস্কার ফেভারিট। যদিও আফগান কোচ জনাথন ট্রটের প্রতিপক্ষের প্রতি আছে যথেষ্ট সমীহ, 'আমি মনে করি বাংলাদেশের সত্যিকারের কিছু ম্যাচ উইনার আছে.'

ট্রট মনে করিয়ে দিলেন তাদের গত বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি,  'সেন্ট ভিনসেন্টে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে আমরা কঠিন লড়াই শেষে জিতেছিলাম, সেমিফাইনালে উঠেছিলাম। আমাদের জন্য ছিলো স্মরণীয় দিন, যেটা আত্মবিশ্বাস দেবে।'

টুর্নামেন্টের পরিস্থিতির কারণে এবারের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশই বেশি চাপে থাকবে বলে মনে করনে ট্রট, 'যেহেতু তাদের জন্য বাঁচা-মরার ম্যাচ বাংলাদেশই চাপে থাকবে।'

লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিং ধসেই আজকের কঠিন অবস্থায় পড়েছে বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে আশা স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ জানালেন, ব্যাটারদেরকে তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে যত দ্রুত সম্ভব লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা গত একদিন করেছেন তারা, 'আমার মনে হয়, এটা সংশয় তৈরি করে (ব্যাটিং ধস)। যখন এমন ব্যর্থতা শুরুতেই ঘটে, খুব দ্রুত চার-পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে দল। তখন ব্যাটসম্যানদের বলতে হয়, এ রকম ঘটনা ঘটতেই পারে, তবে খুব দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে, সামনে তাকাতে হবে। যদি এগোনো না যায় আর অতীতেই পড়ে থাকা লাগে, তাহলে অগ্রগতি খুব ধীর হবে। তাই কোচ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের বোঝানো—খোলসে ঢুকে পড়া যাবে না, আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না, আর বিশ্বাসটা ধরে রাখতে হবে।'

আফগানদের হারিয়ে নিজেদের কাজটা করার বিশ্বাস আছে বাংলাদেশ, বাকিটা নিজেদের হাতে না থাকলেও বিশ্বাসের মন্ত্রেই আস্থা রাখতে চান তারা, 'কোচরা এবং পুরো ম্যানেজমেন্ট তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে বিশ্বাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোচিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদেরও বিশ্বাস রাখতে হবে যে আমরা কোয়ালিফাই করতে পারব। অবশ্যই এটা কঠিন, যখন 'যদি-কিন্তু'র ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সামনে আসা ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে, প্রথমে সেই ম্যাচটা জিততে হবে। তারপর, যখন মানসিকভাবে শক্ত থাকবেন আর বিশ্বাস থাকবে, তখন সেটাই বাস্তবে ঘটতে পারে।'