মেত্রোপলিতানোর ঘাস নিয়ে বার্সেলোনার আপত্তি খারিজ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল বার্সেলোনা। মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামের ঘাসের দৈর্ঘ্য নিয়ে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক প্রকাশ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তবে তাদের সেই আপত্তিতে কান দেয়নি উয়েফা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উয়েফা জানিয়েছে, মাঠের ঘাস নির্ধারিত নিয়মাবলির মধ্যেই রয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সার উদ্বেগের পর উয়েফা মেত্রোপলিতানোর পিচ মেপে দেখেছে। দেখা গেছে, ঘাসের দৈর্ঘ্য ২.৬ সেন্টিমিটার, যা উয়েফার সর্বোচ্চ ৩ সেন্টিমিটার সীমার মধ্যেই রয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার রাতের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মাঠের ঘাস আর নতুন করে কাটার প্রয়োজন পড়ছে না অ্যাতলেতিকোর।
সোমবার চূড়ান্ত অনুশীলনের সময় ঘাসের এই দৈর্ঘ্য দেখেই বিরক্ত হয়েছিলেন হান্সি ফ্লিক। তিনি মাঠেই থাকা উয়েফার এক প্রতিনিধিকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানান। যদিও বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবে উয়েফার কাছে কোনো লিখিত প্রতিবাদ জানায়নি, তবে দুই ক্লাবের প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক বৈঠকে ঘাস কাটার বিষয়টি তারা উত্থাপন করেছিল। উয়েফা তখন আশ্বাস দিয়েছিল, প্রয়োজন হলে ঘাস কাটা হবে; কিন্তু পরিমাপের পর সেই সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।
বার্সেলোনার জন্য মাঠের এই পরিস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ব্লগ্রানারা সাধারণত ছোট ঘাসের মাঠে নিজেদের টেকনিক্যাল এবং পাসিং ফুটবল খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ক্যাম্প ন্যুর ঘাস সাধারণত ২.৩ সেন্টিমিটার রাখা হয়, যা লামিনে ইয়ামালদের বল দ্রুত আদান-প্রদানে সাহায্য করে। মজার ব্যাপার হলো, এই বছরের শুরুতে অ্যাতলেতিকোর কোকে এবং আঁতোয়ান গ্রিজম্যানও এই একই মাঠ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে হওয়া সেই সমস্যাগুলো এখন পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে।
মাঠের বাইরের এই বিতর্কের চেয়েও বার্সার বড় চ্যালেঞ্জ এখন মাঠের ভেতরের সমীকরণ। গত সপ্তাহে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে তারা। ওই ম্যাচে প্রথমার্ধের ঠিক আগে পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখলে দশ জনের দলে পরিণত হয় বার্সা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যাতলেতিকোর হয়ে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলথ।
তবে নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছে কাতালানরা। সোমবার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেছেন, 'ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট খেলোয়াড় আমাদের আছে। তাই দলের ওপর আমার অগাধ আস্থা রয়েছে।'
কোচ হান্সি ফ্লিকও শিষ্যদের ওপর আস্থা রাখছেন, 'আমাদের কোনো অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন নেই, শুধু একটি ভালো পারফরম্যান্স দরকার। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো স্কোয়াড আমাদের আছে। অবশ্যই আমাদের লড়াই করতে হবে, তবে আমাদের মূল শক্তির জায়গাটিতেই বেশি ফোকাস করতে হবে।'
অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে এমন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বার্সেলোনার জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে কোপা দেল রের সেমিফাইনালেও প্রায় একই সমীকরণের মুখে পড়েছিল তারা। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রথম লেগে মাদ্রিদে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লা লিগার শীর্ষ দল বার্সা। মার্চে ফিরতি লেগে ফ্লিকের দল দারুণ লড়াই করে ৩-০ গোলে জয় পেলেও, ফাইনালে ওঠার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর মিশন ফ্লিক-ইয়ামালদের সামনে।