‘ভারতকে হারিয়েই ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে চাই’

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল মানেই যেন বাংলাদেশের জন্য একরাশ হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস। বয়সভিত্তিক কিংবা জাতীয় দল, আসর বা বয়স যাই হোক না কেন, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জয়টা বরাবরই অধরা রয়ে গেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। তবে অতীত পরিসংখ্যানের এই জুজু উড়িয়ে দিয়ে এবার মালদ্বীপের মাটিতে নতুন ইতিহাস লিখতে চায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। দলের অধিনায়কের কণ্ঠেও তাই ভারতকে হারিয়েই শিরোপা নিয়ে দেশে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয়।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনালে আজ শুক্রবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে শিরোপা নির্ধারণী এই মহারণ।

সাফের বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৭ আসরের ৪টিতেই শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। এর মধ্যে তিনবারই (২০১৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-২০ এবং ২০২৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট) ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের। এমনকি জাতীয় দলের পরিসংখ্যানেও ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল লাল-সবুজের দল।

তবে গত আসরে (২০২৪) ইতিহাস বদলেছিল বাংলাদেশ। সেবার ভারতকে সেমিফাইনালে এবং নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সেই ভারতের বিপক্ষেই ফাইনালের মঞ্চে নামছে যুবারা।

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে গ্রুপ পর্বে ভারতকে হারানোর বেশ কয়েকটি রেকর্ড থাকলেও ফাইনালে কখনই তাদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এবারের টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে আইরিশ কোচ মার্ক কক্সের শিষ্যরা ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমি আগেই বলেছিলাম যে, ভারতের বিপক্ষে খেলতে আমরা সবসময় পছন্দ করি। এবার তাদের হারিয়েই ট্রফিটা নিয়ে আমরা দেশে ফিরতে চাই। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এখন আমাদের সামনে। ফাইনালটি আমাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই এবং আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।'

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই খেলোয়াড়দের মাঝে যে বাড়তি উদ্দীপনা কাজ করে, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন মিঠু, 'ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামলে আমাদের ভেতরে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করে, কারণ আমরা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করি। তাই ভারতের বিপক্ষে আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ফাইনালেও আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'

মালদ্বীপের গ্যালারিতে প্রবাসী দর্শকদের বিপুল সমর্থন ফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে বিশ্বাস অধিনায়কের, 'মাঠে খেললে একদম ঘরের মাঠের মতোই মনে হয়। কারণ প্রবাসী ভাইয়েরা প্রতি ম্যাচেই আমাদের সমর্থন দিতে ছুটে আসেন। আশা করছি ফাইনালে এই দর্শক সংখ্যা দ্বিগুণ হবে, যা আমাদের ভালো পারফরম্যান্স করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।'

মেগা ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরের জন্য দারুণ এক সুখবর হলো ডাগআউটে প্রধান কোচ মার্ক কক্সের ফেরা। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আজ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন এই আইরিশ কোচ, যা খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে আরও চাঙা করবে। পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা হিসেবে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের জাত চেনানো এই তারকার দিকেই আজ তাকিয়ে থাকবে পুরো দেশ।