ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে রোমাঞ্চকর ডার্বি জিতল রিয়াল
লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রাখতে রুদ্ধশ্বাস মাদ্রিদ ডার্বি জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তারা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উত্তেজনা, চাপ আর লড়াইয়ে ভরপুর ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান তারকার জোড়া গোলেই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল খেলেছে দারুণ গতিতে। রিয়ালের হয়ে প্রথম দিকে দানি কারভাহালের জোরালো ভলি ঠেকান অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক। ফেদেরিকো ভালভের্দেও একবার বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। জবাবে অঁতোয়ান গ্রিজমানের পাস থেকে মার্কোস লরেন্তে এক-অন-ওয়ান সুযোগ পেলেও রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন দারুণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
এরপর বলের দখল বেশি ছিল রিয়ালের পায়ে, কিন্তু অ্যাতলেতিকো খুব সংগঠিতভাবে রক্ষণ সামলে যায়। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসকে লরেন্তের কড়া মার্কিংয়ে অনেকটা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে অ্যাতলেতিকোর পক্ষে। ডান দিক থেকে গড়ে ওঠা এক আক্রমণে আদেমোলা লুকম্যান বল পেয়ে ভেতরে কেটে আসেন, আর জুলিয়ানোর নিখুঁত পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের পর অ্যাতলেতিকো আরও রক্ষণাত্মক হয়ে ওঠে। রিয়াল ধৈর্য ধরে আক্রমণ সাজাতে থাকে, কিন্তু প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে দিয়েগো সিমিওনের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বিরতির পর রিয়াল অনেক বেশি তীব্রতা নিয়ে মাঠে নামে এবং অ্যাতলেতিকোকে নিজেদের অর্ধে আটকে ফেলে। এক পর্যায়ে বক্সে বল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রাহিম দিয়াস প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিতে গিয়ে ফাউলের শিকার হন, রিয়াল পেয়ে যায় পেনাল্টি। স্পটকিকে থেকে ভুল করেননি ভিনিসিয়ুস। তার গোলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরে।
সমতায় ফেরার পর রিয়াল আরও চড়াও হয়। অ্যাতলেতিকোর রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দুর্বল ব্যাকপাস ও বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণ তৈরি হয়, আর রিয়াল মুহূর্তেই ম্যাচ ঘুরিয়ে ফেলে।
তবে অ্যাতলেতিকোও দ্রুত পাল্টা জবাব দেয়। বদলি হিসেবে নামা নাহুয়েল মলিনা দুর্দান্ত এক গোল করে সমতায় ফেরান দলকে। মাঝমাঠের কাছাকাছি জায়গা থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাইরের পায়ের বাঁকানো শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। দৃষ্টিনন্দন এই গোলে স্কোরলাইন হয় ২-২।
কিন্তু ডার্বির শেষ হাসি হাসে রিয়ালই। ডান দিক থেকে ট্রেন্টের তৈরি আক্রমণে বল পেয়ে ভিনিসিয়ুস তার চিরচেনা ভঙ্গিতে ভেতরে ঢুকে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে বল পাঠান জালে। তার দ্বিতীয় গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।
গোলের পর আবেগে কিছুটা মাত্রা ছাড়িয়ে যায় রিয়াল। ভালভের্দে প্রতিপক্ষের ওপর বেপরোয়া চ্যালেঞ্জ করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ৭৭ মিনিটে ১০ জনে পরিণত হওয়ার পর শেষ সময়টা বেশ চাপের মধ্যেই কাটাতে হয় স্বাগতিকদের। অ্যাতলেতিকো একের পর এক আক্রমণ তোলে, হুলিয়ান আলভারেসের শট পোস্টে লাগে, পরে সোরলথের চেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন লুনিন।