বিশ্বকাপ পরিচালনা বাজেট ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমাল ফিফা
আগামী বছর উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরিচালনার জন্য বরাদ্দ ব্যয় থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি সদরদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগকে খরচ কমিয়ে আরও 'দক্ষতা' দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত ফেব্রুয়ারিতে সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় হতে পারে বলে তারা আশা করছেন। টুর্নামেন্টটি জুন ও জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
ফিফার ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০২৩-২৬ চক্রের জন্য যে বাজেট পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছিল। আর পুরস্কার অর্থ ও টেলিভিশন সম্প্রচারসহ পুরো টুর্নামেন্টের মোট বাজেট ধরা হয় ৩ দশমিক ৭৫৬ বিলিয়ন ডলার।
এই পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত সেবার জন্য ২৮০ মিলিয়ন ডলার, ইভেন্ট পরিবহন খাতে ১৫৯ মিলিয়ন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ১৪৫ মিলিয়ন এবং অতিথি ব্যবস্থাপনায় ৭৯ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
তবে সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে চারজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফিফার সুইজারল্যান্ড সদরদপ্তর থেকে খরচ কমানোর নির্দেশ আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা অনেক কর্মী চাপে রয়েছেন। নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, প্রবেশগম্যতা ও অন্যান্য বিভাগে কাজ করা কর্মীদেরও জানানো হয়েছে যে টুর্নামেন্টের পরিচালনা বাজেট থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, 'ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যতটা সম্ভব আয় বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে ফিফা নিয়মিতভাবে বাজেট পর্যালোচনা করে। আমাদের সব টুর্নামেন্টের আগেই এমন পর্যালোচনা করা হয়।'
ফিফার লক্ষ্য হলো এই চক্রে তাদের নির্ধারিত বিনিয়োগের অন্তত ৯০ শতাংশ আবার বিশ্ব ফুটবলে পুনর্বিনিয়োগ করা। ২০২৩-২৬ চক্রে মোট বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ১১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এমন লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে দর্শক ও আয়োজক শহরগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু গ্রুপ পর্বের টিকিটের দাম ৭০০ ডলার পর্যন্ত, আর ফাইনালের নিচের সারির টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার।
এছাড়া পার্কিং ফিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছে পার্কিংয়ের জন্য ফিফা ২২৫ ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত নিচ্ছে।
অন্যদিকে আয়োজক শহরগুলোর সঙ্গেও কিছু বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মূল আয় যেমন টিকিট, সম্প্রচার, স্পনসরশিপ ও পার্কিং ফিফার কাছে গেলেও নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে শহরগুলোকেই।
ফিফা অবশ্য দাবি করেছে, খরচ কমানো হলেও টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা বা পরিচালনায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময় প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী মাঠে কাজ করবেন যাতে পুরো আয়োজন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হয়।