বাংলাদেশকে ঠেকাতে চায় উজবেকিস্তান
২০২৬ সালের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের খোঁজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় পার্থ রেকটেংগুলার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দল দুটি। নারী এশিয়ান কাপে এই ম্যাচটি উজবেকিস্তানের জন্য চাপের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষাও বটে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে উজবেকিস্তানের প্রধান কোচ কত্রিনা কুলব্যুটে বলেন, এই ম্যাচের গুরুত্ব দুই দলের কাছেই সমান। তার ভাষায়, 'এই ম্যাচটি আমাদের এবং প্রতিপক্ষ দুই দলের জন্যই নির্ধারণী হতে যাচ্ছে। আমরা জানি এটা সহজ হবে না। বাংলাদেশ খুবই দৃঢ়, গতিময় এবং খুব দ্রুতগতির দল।'
টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে টানা হারে চাপে রয়েছে উজবেকিস্তান। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হেরে গেছে তারা। ফলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের পর্বে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই।
কুলব্যুটের মতে, ম্যাচে শান্ত থাকা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখাই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি। 'আমরা ম্যাচটিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং সেরাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। মাঠে যদি ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি, ফলাফলও আমাদের পক্ষে আসবে,' বলেন তিনি।
লিথুয়ানিয়ান এই কোচ আরও জানান, দলের স্কোয়াড গভীরতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 'আমাদের ২৬ জন খেলোয়াড়ই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। টুর্নামেন্টের আগেই আমাদের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ছিল—কোন খেলোয়াড় কোন ম্যাচে ভূমিকা রাখবে, তা সবাইকে বুঝতে হবে।'
অন্যদিকে বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার মনে করছেন, ম্যাচটি হতে পারে কৌশলগত লড়াইয়ের। চীনের কাছে ২–০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫–০ গোলে হারার পর দুই দলই এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে।
বাটলার বলেন, 'ম্যাচটি কিছুটা "ক্যাট অ্যান্ড মাউস" ধরনের হতে পারে। শুরুতে দুই দলই হয়তো একটু সতর্ক থাকবে। তবে আমরা এমন দল নই যারা শুধু রক্ষণে বসে থাকতে পছন্দ করে, আমরা সামনে এগিয়ে খেলতে চাই।'
কিছু পরিসংখ্যান
• টুর্নামেন্টে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়া কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে উজবেকিস্তান হেরেছিল ২০০৩ সালের গ্রুপ পর্বে ভিয়েতনামের কাছে ৪–২ গোলে। এর আগে এমন ম্যাচে তাদের টানা তিন জয়ের রেকর্ড ছিল।
• এএফসি নারী এশিয়ান কাপে উজবেকিস্তান টানা পাঁচ ম্যাচ হেরেছে, যা এই প্রতিযোগিতায় তাদের দীর্ঘতম হারধারা। একই সঙ্গে শেষ তিন ম্যাচে তারা কোনো গোলও করতে পারেনি।
• বাংলাদেশের আফঈদা খন্দকার (৬টি) এবং উজবেকিস্তানের মাফতুনা শোইমোভা (৫টি) গ্রুপ ‘বি’-তে সবচেয়ে বেশি শট ব্লক করেছেন।
• বাংলাদেশের মনিক চকমা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৩৮টি ডুয়েলে অংশ নিয়েছেন, গ্রুপ ‘বি’তে যা অন্য যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সাতটি বেশি। এছাড়া তিনি ১০টি ড্রিবল করার চেষ্টা করেছেন, যা গ্রুপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।