হামে মৃত্যু সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি
সরকারের কেন্দ্রীয় তালিকার তুলনায় হামে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যে সরকারি হিসাবের চেয়ে অন্তত আরও ৩৪ জন হামের উপসর্গে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা যায়নি। তবে হাম আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত এ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত আরও ২৫ জন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং হামে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, উপসর্গ নিয়ে ২৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নেই কেন্দ্রীয় তালিকায়।
যোগাযোগ করা হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইন উদ্দিন খান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হামের উপসর্গে বিভাগের সবগুলো মৃত্যুর ঘটনা এই হাসপাতালে।'
মঙ্গলবার পর্যন্ত এ হাসপাতালে মোট ২৫ জন মারা গেছে এবং এই তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, 'আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। কিন্তু সরাসরি ঢাকায় সদরদপ্তরে পাঠাই না।'
'সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সদরদপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু আমাদের তথ্য সঠিক,' বলেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ তাৎক্ষণিকভাবে সংখ্যাটি মনে করতে পারেননি। তবে তিনি তার কার্যালয়ের এক কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ওই কর্মী ডেইলি স্টারকে জানান, তারা ময়মনসিংহ মেডিকেলে সন্দেহভাজন মৃত্যুর মোট সংখ্যা সংগ্রহ করে দেখেছেন, মৃতদের মধ্যে ১২ জন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন ও ওই কর্মীর দাবি, প্রতিদিন ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদরদপ্তরে তথ্য পাঠানো হয়।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে এবং ৫ জন হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
অথচ বিভাগীয় তথ্য বলছে, গত মার্চ মাস থেকে বরিশালে ২২ জন হাম উপসর্গ নিয়ে এবং ৩ জন হামে মারা গেছে।
অর্থাৎ, দুই বিভাগ মিলিয়ে অন্তত ৩৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, যা এখনো সরকারি কেন্দ্রীয় তালিকায় যুক্ত হয়নি।
বরিশাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, ভোলায় ৬ জন ও ঝালকাঠিতে ২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
এছাড়া, বরগুনায় হাম আক্রান্ত হয়ে ৩ জন মারা গেছেন বলে বিভাগীয় তথ্যে জানা গেছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ডেইলি স্টারকে জানান, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মার্চে মোট ৮ জন, এপ্রিলে ১৪ জন ও মে মাসে বিভাগে ৩ জন মারা গেছে।
যোগাযোগ করা হলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক লোকমান হাকিম বলেন, 'আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কম্পাইল করি।'
সারা দেশের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের কাজ করে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ।
এ বিষয়ে এমআইএস পরিচালক আবু আহাম্মদ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যোগাযোগের দুর্বলতার কারণে সংখ্যায় অমিল হতে পারে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।'
তিনি আরও বলেন, 'মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। আমাদের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল সেল ওয়েবসাইটে প্রতিদিন বিভাগওয়ারী হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে।'