উত্তর কোরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

চীনের তুলনায় উত্তর কোরিয়া যে অনেক বেশি কঠিন প্রতিপক্ষ হবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল। তবু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের দারুণ লড়াই প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল সমর্থকদের। কিন্তু এদিন সেই প্রত্যাশা পূরণ করা গেল না। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা শক্তিশালী দলটির সামনে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়লেন পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

সিডনিতে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের 'বি' গ্রুপের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫–০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। কোরিয়ানদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিয়ং-ইয়ং কিম। এছাড়া একটি করে গোল করেছেন উন-ইয়ং চাই, ইউ-জং মিয়ং ও হাই-ইয়ং কিম।

তবে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। প্রথমার্ধেই দুইবার ভিএআর-এর সিদ্ধান্তে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। একটি বাদ যায় অফসাইডের কারণে। একবার আবার উত্তর কোরিয়ার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পুরো ম্যাচজুড়েই গোলরক্ষক মিলি আক্তারের একের পর এক দারুণ সেভই ব্যবধানকে পাঁচ গোলেই আটকে রাখে।

চীনের বিপক্ষে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুলতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এমনকি একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এদিন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আক্রমণের ধারই দেখা যায়নি। একবারের জন্যও কার্যকর আক্রমণ করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধে তো উত্তর কোরিয়ার গোলরক্ষক সন-গুম ইউকে বল ছোঁয়ার প্রয়োজনই পড়েনি।

ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে যে আক্রমণাত্মক ও সংগঠিত ফুটবল দেখা গিয়েছিল, এদিন তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া, দ্রুত পাসিং ও ক্রমাগত মুভমেন্টে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা।

চাপ সামলাতে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শুরুতে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ বাটলার। মাঠে নামানো হয় স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া ও উমেহলা মারমাকে। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। প্রথমার্ধের মূল সময় আটকে রাখলেও যোগ করা সময় পরপর দুই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ।

যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন মিয়ং। আর বিরতির বাঁশি বাজার আগে বল জালে পাঠান কিয়ং-ইয়ং। বিরতির পর ১৭ মিনিট জাল অক্ষত রাখলেও দুই মিনিটের ঝরে আরও দুটি গোল হজম করে বাংলাদেশ। আর একেবারে শেষ দিকে শেষ পেরেক ঠুকে দেন হাই-ইয়ং।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। পিটার বাটলারের শিষ্যদের নকআউট পর্ব নির্ভর করছে সেই ম্যাচের ফলাফলের উপরই।