এবার ওমানকে কেন ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ওমানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, ওমান ‘ঠিকভাবে আচরণ না করলে’ দেশটিকে ‘উড়িয়ে দিতে’ হতে পারে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। এমন খবর প্রকাশের পরই ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নেবে না। আমরা এটি পর্যবেক্ষণে রাখব, তবে কারও নিয়ন্ত্রণে যেতে দেবো না। এটি আমাদের আলোচনারই অংশ।’

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চায় ওমান এমন একটি ব্যবস্থাকে সমর্থন করুক, যার মাধ্যমে এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করা সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা এটি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।’ তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, হরমুজ আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ।

এরপরই ওমানকে নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ওমানও অন্য সবার মতো আচরণ করবে। নইলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। তারা এটা বোঝে।’

তবে ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে হোয়াইট হাউস পরে ব্যাখ্যা বা সংশোধন করেনি। ওয়াশিংটনে ওমান দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাতে অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। বুধবারের বৈঠকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান সময়ক্ষেপণ করছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি টেনে নিতে চায়।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থি নেতারাও সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আলোচনার সমালোচনা করেছেন।

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘গুঞ্জন ওঠা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হবে একটি বিপর্যয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিতে যা অর্জিত হয়েছে, তা সবই বৃথা হয়ে যাবে।’