সাক্ষাৎকার

সেরাদের বিপক্ষে ‘ভালো কিছুর’ আশায় আফিদা

আনিসুর রহমান
আনিসুর রহমান

গত বছরের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি ওমেন’স এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। এখন এশিয়ার সর্বোচ্চ এই টুর্নামেন্টে নিজেদের অভিষেকের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) উচ্চাভিলাষী প্রস্তুতি পরিকল্পনা হাতে নিয়েও সবটুকু বাস্তবায়ন করতে পারেনি। প্রস্তুতির এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অধিনায়ক আফিদা খন্দকার অঙ্গীকার করেছেন, এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে তারা তাদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন। আফিদা প্রত্যাশা, প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সঙ্গে।

প্রশ্ন: প্রথম এশিয়া কাপ খেলতে যাচ্ছেন, আপনাদের প্রত্যাশা কী?

উত্তর: যেহেতু প্রথমবার আমরা কোয়ালিফাই করেছি, তাই প্রত্যাশা অনেক। এই সাফল্য একদিনে আসেনি, অনেক কষ্টের পর আমরা এই সফলতা পেয়েছি। সেখানে এশিয়ার সেরা দলগুলো থাকবে, তাই সেরাদের ভেতরে সেরা হতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। শুরু থেকেই আমাদের চেষ্টা থাকবে ভালো কিছু করার।

প্রশ্ন: প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি থেকে গেল কি না?

উত্তর: প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। লিগে আমরা সবাই ১০টি ম্যাচ খেলেছি এবং সেখান থেকে নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো শিখতে পেরেছি। যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে।

প্রশ্ন: জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে আগে খেলেছেন, সামনে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

উত্তর: জাপানের সঙ্গে আগে খেলেছি, তবে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে খেলা হয়নি। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে তারা অনেক ফাস্ট খেলে এবং সব দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে। সেখান থেকে যা শিখেছি তা হয়তো এশিয়া কাপে কাজে লাগবে।

প্রশ্ন: ফিটনেস ট্রেইনার ক্যামেরুন লর্ড যোগ দেওয়ার পর আপনাদের ফিটনেসে কতটুকু উন্নতি হয়েছে?

উত্তর: এখন সবার ফিটনেস অবস্থা মোটামুটি ভালো। লিগ যখন বন্ধ ছিল, তখন আমরা উনার অধীনে অনেক হার্ডওয়ার্ক করেছি। উনি যেভাবে করানোর চেষ্টা করেছেন, আমরাও সেভাবে করেছি এবং আশা করছি ভালো কিছুই হবে।

প্রশ্ন: থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো না হওয়ায় আপনারা কি কোনো অভিজ্ঞতা মিস করলেন?

উত্তর: ম্যাচগুলো হলে খুব ভালো হতো, আমাদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়ত। থাইল্যান্ডের সঙ্গে আগে খেলে আমাদের রেজাল্ট একটু খারাপ হয়েছিল, এবার খেললে বুঝতে পারতাম তখনকার আর এখনকার খেলার পার্থক্য কতটুকু। ভালো দলের সঙ্গে খেললে ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়া যায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এশিয়া কাপে খেলা ভবিষ্যতে কেমন প্রভাব ফেলবে?

উত্তর: সবাই আশা করে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবে। সাফ জেতার পর এবং কোয়ালিফাই করার পর সাধারণ মানুষের যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে সামনে ফুটবল আরও জাগরণ হবে।

প্রশ্ন: আলপি বা প্রীতির মতো নতুন খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে সিনিয়ররা কতটুকু স্বস্তিবোধ করছেন?

উত্তর: এটি পুরো টিমের জন্যই স্বস্তিদায়ক। সামনে অনূর্ধ্ব-২০ দলের অনেক খেলা আছে। ওরা সিনিয়র টিমের সঙ্গে থাকলে সিনিয়ররা কীভাবে খেলছে বা কী করছে সেই অভিজ্ঞতাটা ওদের ভেতরে থাকবে, যা পরবর্তীতে ওদের আরও ভালো করতে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: ঘরোয়া ফুটবল বা ডোমেস্টিক কাঠামো নিয়ে আপনার আক্ষেপ কতটা?

উত্তর: আক্ষেপ বা হতাশ হওয়ার কিছু নেই, তবে আমাদের দেশে সবসময়ই ছেলেদের জন্য বরাদ্দ বেশি থাকে আর মেয়েদের জন্য একটু কম থাকে। এটি মেনেই আমরা এতদিন আসছি, কিন্তু আমরা যেহেতু ছেলেদের থেকে ভালো করছি, তাই আমাদের সুযোগ-সুবিধা আরও ভালো হওয়া উচিত। নিয়মিত ভালো দলের সঙ্গে আমাদের ঘরোয়া লিগ খেলা উচিত।