‘ক্রিকেট স্কোর’ এড়াতে সর্বোচ্চ লড়াইয়ের আহ্বান বাটলারের
অভিষেকের রোমাঞ্চের পাশাপাশি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এএফসি নারী এশিয়ান কাপ সামনে রেখে দলের কোচ পিটার বাটলার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে লড়াই করা সহজ নয়। বড় ব্যবধানে হার, যাকে তিনি “ক্রিকেট স্কোর” বলে উল্লেখ করেছেন, তা এড়াতে হলে খেলতে হবে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যের ফুটবল।
অভিষেক টুর্নামেন্ট হলেও বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড়। স্বপ্ন যেমন বাস্তব হয়েছে, তেমনি শক্তির ব্যবধানও যে ভয়ংকর বাস্তব, সেটিও স্বীকার করছেন বাটলার।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এশিয়ার তিন শক্তিধর দল -নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী ফুটবল দল, তিনবারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দল এবং উজবেকিস্তান নারী ফুটবল দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ শুক্রবার ভোরে উড়াল দেবে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে।
প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা দুই তৃতীয় দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে কাগজে-কলমে বাংলাদেশের জন্য এটি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়া এবং ১৭ নম্বরে থাকা চীন অনেকটাই এগিয়ে। এমনকি তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত ৪৯ নম্বরে থাকা উজবেকিস্তানও “প্রযুক্তিগত ও শারীরিকভাবে অনেক এগিয়ে”, মন্তব্য বাটলারের।
উজবেকিস্তানকে হারালে শেষ আটে যাওয়া সম্ভব কি না, এ প্রশ্নে তিনি বাস্তববাদী, “এসবই কল্পনা। উজবেকিস্তানকে খাটো করে দেখবেন না। তাদের বিপক্ষে যেমন, তেমনি চীন ও কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষেও আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। না হলে ফলাফল ক্রিকেট স্কোরের মতো হয়ে যেতে পারে। যারা ভাবছে আমরা এখনই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত, তাদের বাস্তবতায় ফিরতে হবে। ধাপে ধাপে এগোতেই হবে।”
টুর্নামেন্টটি শুধু মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ারও বড় মঞ্চ। শীর্ষ ছয়টি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে, আর দুটি দল আন্তঃমহাদেশীয় প্লে–অফের সুযোগ পাবে।
১২ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে ৩ মার্চ সিডনিতে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ৬ মার্চ মেয়েদের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। সবশেষ ম্যাচে অন্য প্রতিপক্ষের তুলনায় কিছুটা কম শক্তির দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লাল-সবুজের দল লড়বে ৯ মার্চ।
যোগ্যতা অর্জনের পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং বিদেশে প্রস্তুতি ক্যাম্পের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে দল খেলতে পেরেছে মাত্র চারটি ম্যাচ -থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানের বিপক্ষে।
বিদেশে ক্যাম্পের বদলে কেপিজেডে নিবিড় অনুশীলন করেছে দল, পাশাপাশি খেলোয়াড়রা এক মাসব্যাপী ঘরোয়া লিগেও অংশ নিয়েছে।
বাটলার বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। কাউকে দোষ দিচ্ছি না, কিন্তু আমরা যে পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলাম তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রয়োজনীয় ম্যাচ ও ক্যাম্পের যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ হয়নি। এখন আমরা পিছিয়ে পড়া অবস্থান থেকে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। বাস্তবতার দায় আমাকে নিতেই হবে।”
টুর্নামেন্টের আগে ছয় দিনের একটি ক্যাম্পে অংশ নেবে বাংলাদেশ দল। ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের বয়স ২০ বছরের নিচে হওয়ায় কৌশলগত পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হচ্ছে কোচকে। “শুধুই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে এসব দলের বিপক্ষে নামলে বড় ধাক্কা খেতে হবে। শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে ছোট ভুলের মূল্যও খুব কঠিনভাবে দিতে হয়,” বলেন তিনি।
দল পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, এ কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন বাটলার। খেলোয়াড়দের ক্লান্তি, ৪জি টার্ফে খেলার চাপ এবং চোট সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দলের ফিজিওথেরাপিস্টের সাম্প্রতিক অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচারের কারণে।