লাপোর্তার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়েও অনীহা মেসির
কাতালান ক্লাবের ইতিহাসের নায়ক হলেও সময়ের ব্যবধানে সম্পর্কের দূরত্ব যে কতটা গভীর হতে পারে, তারই ইঙ্গিত দিলেন বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও ক্লাব কিংবদন্তি লিওনেল মেসি নাকি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
সেই রাতটি ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য বিশেষ, কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি রেকর্ড অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বিশ্ব ফুটবলের চোখ ছিল তার দিকেই। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত লাপোর্তার সঙ্গে দেখা হলেও, পুরোনো পরিচিত সেই মুখের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ে আগ্রহ দেখাননি মেসি।
লাপোর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দু’জনের সম্পর্ক আগের মতো নেই, বরং ২০২১ সালে আবেগঘন বিচ্ছেদের পর থেকে তা “টানাপোড়েনপূর্ণ” হয়ে আছে। ওই গ্রীষ্মেই আর্থিক সংকটে জর্জরিত বার্সেলোনা মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় এবং ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে বিদায় জানাতে বাধ্য হয়।
ক্লাবটি তখন নতুন চুক্তির অর্থ জোগাড় করতে না পারলেও প্রথমে আশা করেছিল, অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য মেসি হয়তো বিনা পারিশ্রমিকে খেলতে রাজি হবেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যোগ দেন পিএসজিতে। বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে চোখের জল ফেলেছিলেন তিনি, যা ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে আছে।
মেসির কাছে এই বিচ্ছেদ সহজ ছিল না। যে ক্লাব তাকে বিশ্বসেরা তারকায় পরিণত করেছিল, সেই ক্লাব ছাড়তে বাধ্য হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা করা তার পক্ষে কঠিন বলেই মনে করা হয়। এরপর কয়েকবার মুখোমুখি হলেও সম্পর্কের বরফ পুরোপুরি গলেনি।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম কাতালুনিয়া রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা বলেন, “মেসির সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো নেই। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে একটি ঘটনা ঘটেছিল, আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সে মনে করেছিল আমাদের পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত নয়।”
তবে তিনি এটাও জানান, এরপর কিছুটা সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও ভালো হবে বলে আশা করেন। লাপোর্তার কথায়, “সম্পর্কে টানাপোড়েন আছে, কিন্তু সে বার্সেলোনার কিংবদন্তি।”