প্রেস্তিয়ান্নির নিষেধাজ্ঞা চান এমবাপে, বর্ণবাদীদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ভিনিসিয়ুস

স্পোর্টস ডেস্ক

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ প্রথম লেগে জয় পেলেও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচটি ছাপিয়ে গেছে বর্ণবাদ বিতর্ক। ম্যাচ শেষে ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে সরাসরি দাবি তুলেছেন, বেনফিকার তরুণ উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।

মঙ্গলবার লিসবনে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মাথায় গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এর কিছুক্ষণ পরই অভিযোগ ওঠে, প্রেস্তিয়ান্নি নাকি তাকে উদ্দেশ করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবলার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিনিসিয়ুস তার কথা ভুল বুঝেছেন।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, প্রেস্তিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু বলেন, যা ভিনিসিয়ুস ও তার সতীর্থরা বর্ণবাদী মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ঘটনাটি গুরুতর আকার নিলে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ফিফার বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল চালু করে ম্যাচ ১১ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এমবাপে সরাসরি প্রেস্তিয়ান্নির মুখোমুখি হয়ে তাকে “একজন বর্ণবাদী” বলে অভিযুক্ত করছেন। খেলা পুনরায় শুরু হলে মাঠের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, প্রতিবার বল স্পর্শ করলেই এমবাপে ও ভিনিসিয়ুসকে জোরে দুয়ো দিতে থাকে স্বাগতিক সমর্থকরা। তবে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেও ম্যাচটি আর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই শেষ হয়।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রেস্তিয়ান্নি লিখেছেন, “আমি কখনোই ভিনি জুনিয়রের প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করিনি। দুর্ভাগ্যবশত তিনি ভুল শুনেছেন। আমি কখনো কারও সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করিনি এবং রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যে হুমকি পেয়েছি, তাতে আমি দুঃখিত।”

অন্যদিকে এমবাপে সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রেস্তিয়ান্নিকে একই মন্তব্য একাধিকবার করতে শুনেছেন, যা রিয়ালের ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিয়ান চুয়ামেনিও অভিযোগ করেছেন। এমবাপে বলেন, তিনি মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু ভিনিসিয়ুস তাকে খেলা চালিয়ে যেতে রাজি করান।

এমবাপের ভাষায়, “ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এমন আচরণকারী কোনো খেলোয়াড়কে আমরা মেনে নিতে পারি না। এই ব্যক্তি আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্য নয়। আমাদের বাড়িতে বসে থাকা শিশুদের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করতে হবে, বিশ্ব আমাদের দেখছে।”

প্রেস্তিয়ান্নি ক্ষমা চেয়েছেন কি না, এ প্রশ্নে এমবাপে হাসতে হাসতে বলেন, “অবশ্যই না।”

পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস। তিনি লেখেন, “বর্ণবাদীরা মূলত কাপুরুষ। নিজেদের দুর্বলতা লুকাতে তারা মুখ ঢেকে কথা বলে। অথচ যাদের শাস্তি দেওয়ার কথা, তারাই তাদের রক্ষা করে। আমার বা আমার পরিবারের জীবনে এসব নতুন কিছু নয়।”

স্পেনে দীর্ঘদিন ধরেই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। ২০২২ সাল থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে অন্তত ১৮টি আইনি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

দুই দল আবার মুখোমুখি হবে আগামী বুধবার মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগে। সেখানে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই বিতর্কও আলোচনার কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।