লিটনের আক্ষেপের সেশনে মুশফিকের ব্যাটে লিড ছাড়িয়ে গেল সাড়ে তিনশো
আগের দুদিন দুই দলের ব্যাটাররা যেভাবে ভুগছিলেন, তৃতীয় দিনের পরিস্থিতি হলো ভিন্ন। শুরুতে বল মুভ করলেও সিলেটের উইকেটে ব্যাট করা মনে হলো বেশ সহজ। সেখানে ইতিহাসের তৃতীয় কিপার ব্যাটার হিসেবে জোড়া সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও আক্ষেপে পুড়েন লিটন দাস। তবে মুশফিকুর রহিম ধৈর্য ধরে অসামান্য নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে আছেন সেঞ্চুরির কাছে। তার ব্যাটে বাংলাদেশের লিড এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখান থেকে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে।
সোমবার সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের চা-বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩০৫ রান। ইতোমধ্যে লিড হয়ে গেছে ৩৫২ রানের। মুশফিক ৯০ ও তাইজুল ৮ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন।
সিলেটে এর আগে টেস্ট হয়েছে পাঁচটা, যার তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এই মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে দুইবার হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে স্বাগতিকদের। এই মাঠে সফল রান তাড়ার নজির কেবল একটা, আর সেটা করেছে জিম্বাবুয়ে।
গত বছর বাংলাদেশের দেওয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩ উইকেটে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের কাছেই ২০১৮ সালে সিলেটের অভিষেক টেস্টে ৩২১ রান তাড়ায় ১৫১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৫১১ রান তাড়ায় ৩২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারে স্বাগতিকরা।
প্রতিপক্ষকে বড় রানের লক্ষ্য দিয়ে বড় জয়ের সুখস্মৃতিও আছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ৩৩২ রানের লক্ষ্য পেরুতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়া নিউজিল্যান্ড হেরেছিল ১৫০ রানে।
ইতিহাস বলছে সিলেটের ভেন্যুতে দুইশো রানের বেশি তাড়া করার নজির নেই। লক্ষ্যটা তিনশো ছাড়িয়ে গেলে রান তাড়া করতে নামা দল হারে বড় ব্যবধানে।
বাংলাদেশের মাঠেই টেস্টে সাড়ে তিনশো তাড়া করে কোন দলের জয়ের নজির একটাই। ২০২১ সালে কাইল মেয়ার্সের সেঞ্চুরিতে ৩৯৫ তাড়া করে বাংলাদেশকে হতাশায় পুড়িয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও রিশভ পান্তের পর তৃতীয় কিপার ব্যাটার হিসেবে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির সামনে ছিলেন লিটন দাস। আগের ইনিংসের নায়ক খেলছিলেনও সাবলীলভাবে। তবে লাঞ্চের পর ভালো খেলতে খেলতে আচমকা দিয়ে দেন ক্যাচ। হাসান আলীর বলে আপার কাট করে বাউন্ডারিতে পাঠাতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ধরা দেন ৬৯ করা বাংলাদেশের কিপার ব্যাটার।
মুশফিকুর সকাল থেকেই চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তা নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মেঘলা আকাশে শুরুতে বলে মুভমেন্ট থাকায় গুটিয়ে রেখেছিলেন নিজেকে। নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ঘণ্টার মধ্যে ফিরে গেলে আরও সতর্ক হয়ে যান তিনি।
পঞ্চম উইকেটে লিটনের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটিতে তার অবদান কেবল ৪৯। লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটিতেও কেবল ১৩ যোগ করেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৭ম উইকেট জুটিতে অবশ্য বাড়াচ্ছেন রানের গতি। সিলেটের উইকেট এখনো ব্যাট করার জন্য যথেষ্ট ভালো থাকায় পুঁজিটা ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে চায় স্বাগতিকরা।