নবনিযুক্ত ভিসির বিরোধিতা করে ‘ডুয়েট ব্লকেড’
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্যকে (ভিসি) প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা ক্যাম্পাসের বাইরের কাউকে উপাচার্য হিসেবে চান না। শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এর আগে গত রোববার উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হন।
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার বাস্তবতা ভিন্ন। ডুয়েটের শিক্ষাব্যবস্থা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে নিজস্ব শিক্ষকদের ধারণা অনেক বেশি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে ডুয়েট শাখা ছাত্রশিবির। আজ সকালে ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ আহাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছেন। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আমরা এই আন্দোলনকে যৌক্তিক মনে করি।’ তিনি অভিযোগ করেন, রোববার ছাত্রদল ও বহিরাগতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এর শাস্তি দাবি করেন তারা।
নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে গত রোববার সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচি দেওয়া হয়। এর একপর্যায়ে উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ডুয়েটের পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) উৎপল কুমার দাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যারা ছিলেন, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী। আর বাইরে ছিল বহিরাগতরা, যাদের আমরা চিনতে পারিনি।’ বাইরে থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, হামলায় আহত ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডুয়েট ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ভিসিকে নিয়োগ দিয়েছে। রোববার আমি ভিসির সঙ্গেই সেখানে ছিলাম। মূল গেট বন্ধ দেখে খোলার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে বাধা আসে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। সেখানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রদলের অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, রোববারের সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে মামলা হবে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।