‘বহুদিন পর এমন ব্যাটিং দেখলাম’, লিটনের ইনিংসের প্রশংসায় রমিজ
ধারাভাষ্য দিতে দিতেই লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করছিলেন রমিজ রাজা। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার পরে নিজের ব্লগেও লিটনকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়। আগ্রাসণ, নিয়ন্ত্রণ, দলের চিন্তায় নিবেদন আর দ্যুতিময় শটের পসরায় এমন ইনিংস রমিজও বহুদিন দেখেননি। তবে লিটনের বিপক্ষে পাকিস্তানের কৌশলেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
সিলেট টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে বুক চিতিয়ে অনবদ্য সেঞ্চুরি করে আলো কেড়ে নিয়েছেন লিটন। কোণঠাসা অবস্থা থেকে টেল এন্ডারদের নিয়ে দলকে রেখেছেন লড়াইয়ে। দেড়শোর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা কাটিয়ে ২৭৮ এনে দিয়েছেন বোর্ডে, নিজে করেছেন ১২৬ রান।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও ব্লগে লিটনের ইনিংস নিয়ে পর্যালোচনা করে রমিজ বলেন, ‘আমি অনেক যুগ পর এমন ব্যাটিং দেখলাম, কারণ এই ইনিংসটির বিভিন্ন ধাপ ছিল। প্রথমে তাকে নিজের জন্য খেলতে হয়েছে, তারপর দলের জন্য। একটি সিমিং পিচে এসে তিনি নিজেকে থিতু করেছেন এবং মনে হচ্ছিল তিনি যেন একটি বর্ধিত নেট সেশন খেলছেন। তাকে বেশ নির্লিপ্ত লাগছিল। তিনি ক্রিজে যাচ্ছিলেন এবং তার কাছে এত সময় ছিল যে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে বল থামাচ্ছিলেন, একই লেংথের বলে বাউন্ডারি মারছিলেন এবং সেই একই লেংথে টেল-এন্ডারদের সঙ্গে খেলার সময় সহজেই সিঙ্গেল নিচ্ছিলেন।’
তবে লিটনের বিপক্ষে পাকিস্তানের কৌশলেও ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন রমিজ, ‘লিটন দাস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে খেলছেন, তখন তাদের উচিত ছিল স্বাভাবিক বোলিং এবং স্বাভাবিক ফিল্ডিং সেটআপ নিয়ে তাকে বোলিং করা। কারণ দেখুন, ফিল্ডাররা যদি ভেতরে থাকত, তবে হয়তো তিনি ওপর দিয়ে মারার ঝুঁকি নিতেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় আউট হয়ে যেতেন। যেহেতু আপনি তাকে এক অর্থে সম্পূর্ণ সহজ পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন, তাই তিনি এই কৌশলের সঙ্গে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে এটি তার জন্য সহজ হয়ে উঠেছিল।’
লিটন স্ট্রাইক পেলে ফিল্ডার বাউন্ডারিতে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। টেল এন্ডারদের আগলে রেখে ২৬বার সিঙ্গেল রিফিউজ করেন লিটন। অবশ্য বাউন্ডারিতে ফিল্ডার ভরপুর করলেও ঠিকই পথ বের করে এগিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ৮ ফিল্ডার বাউন্ডারিতে থাকলেও চার মারার পথ বানিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের ২৭৮ রানের জবাবে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিনে স্বাগতিকদের বল হাতে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে হবে।