লোয়ার অর্ডারের কাছ থেকেও ব্যাটিং অবদান চান লিটন
আধুনিক ক্রিকেটে বিশেষকরে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে শক্তিশালী দলগুলোতে টপ ও মিডল অর্ডারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দলে অবদান রাখেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা। সেখানে বাংলাদেশ এই অংশে বরাবরই ব্যর্থ। বিশেষজ্ঞ ব্যাটাররা ব্যর্থ হলে অল্পতেই আটকে থাকছে টাইগারদের পুঁজি। তবে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের কাছ থেকে কিছু সহায়তা প্রত্যাশা করছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর মাঝারি পুঁজি নিয়ে লড়াই করে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই অবধারিতভাবেই উঠে এসেছে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রসঙ্গ। অধিনায়ক লিটন দাস অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন, লোয়ার অর্ডার থেকে যেমন অবদান দলের প্রত্যাশিত, তা পাওয়া যাচ্ছে না। এই জায়গায় উন্নতি না হলে যে আগামী দিনেও ভুগতে হবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
অধিনায়কের মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে কেবল টপ অর্ডারের ওপর ভরসা করে ম্যাচ জেতা কঠিন। বিশেষ করে যখন দলের প্রথম সারির ব্যাটাররা ব্যর্থ হন, তখন লোয়ার অর্ডারকেই হাল ধরতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, টপ অর্ডারের পতনের পর শেষের দিকের ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে পারছেন না।
লিটনের ভাষায়, 'প্রথম প্রেস কনফারেন্সে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে আমাদের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই যে তারা আমাদেরকে ইনপুট দেবে ব্যাটিংয়ে। সো আজকে জায়গা ছিল বাট আবারও ব্যর্থতা।'
তিনি আরও যোগ করেন যে, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, বা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনদের মতো অলরাউন্ডারদের কাছ থেকে শেষের দিকে কার্যকরী ব্যাটিং আশা করে দল, যা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। এই তিন ব্যাটার এদিন সর্বোসাকুল্যে যোগ করেছেন ১২ রান। রিশাদ ৫ রান করেন, শেখ মেহেদী ৭ রানে অপরাজিত থাকেন, আর সাইফউদ্দিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
লোয়ার অর্ডারে একজন পারফেক্ট ব্যাটার খেলানোর বিষয়ে লিটন স্পষ্টতই বোলারদের কোটা পূরণের বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরেন। টি-টোয়েন্টিতে ৫ জন বোলার ছাড়া মাঠে নামা অসম্ভব। যদি ৯ জন ব্যাটার খেলানো হয়, তবে ৩ জন বোলার নিয়ে খেলতে হবে, যা কোনো দলের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই দলে এমন অলরাউন্ডার প্রয়োজন যারা পুরো ৪ ওভার বোলিং করার পাশাপাশি ৭ নম্বর পজিশনে নেমে কার্যকর ব্যাটিংও করতে পারবেন।
লিটন বলেন, 'শেখ মেহেদী তো ব্যাটিং পারে বাট ওই পারফরম্যান্সটা আমাদের দরকার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে। সেম গোজ টু নাসুম অ্যান্ড রিশাদ... তাদের কাছ থেকে আমরা একটা ব্যাটিং আশা করি যে ব্যাটিংটা কিছু কিছু সময় এরকম গেম থাকবে যে গেমগুলোতে লোয়ার অর্ডারের দরকার। তো এই জিনিসটা খুবই ইম্পর্টেন্ট।'
তবে এই সমস্যা সমাধানের জন্য রাতারাতি কোনো জাদুকরী পথ দেখছেন না অধিনায়ক। তিনি জানিয়েছেন, দলের ব্যাটিং কোচরা লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে নিরলস কাজ করছেন। অনুশীলনেও তারা নেটে বেশ সময় দিচ্ছেন। তবে নেটের অনুশীলন আর মূল ম্যাচের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে মনে করেন লিটন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি তারা সুযোগ পেয়ে ম্যাচে রান করতে পারেন, তবেই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
'আই হোপ যে ওরা যদি ম্যাচগুলোতে পারফর্ম করে তাহলে কনফিডেন্সটা আরও বিল্ড আপ হবে। এবং আই হোপ যে ওয়ার্ল্ড কাপ আসতে আসতে কিছুটা হলেও বেটার হবে।' লিটনের এই কথায় স্পষ্ট, আসন্ন বড় টুর্নামেন্টগুলোর আগে দলের এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে মরিয়া বাংলাদেশ দল।