ফের বিপদে ত্রাতা হয়ে লিটনের অনবদ্য সেঞ্চুরি
খুররম শাহজাদকে পাঞ্চ করে কাভার দিয়ে সীমানা ছাড়া করে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেন লিটন দাস। তুমুল করতালিতে মাতেন সবাই। সেঞ্চুরির উদযাপন থামিয়ে ঠিক পরের বল উড়িয়ে দেন ফাইন লেগ দিয়ে। নিয়ন্ত্রণ, আগ্রাসন, লেজের ব্যাটারদের আগলে রেখে বুদ্ধি করে খেলে খাদের কিনার থেকে দারুণ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন লিটন। ঠিক যেন রাওয়ালপিন্ডির মতো। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন সেঞ্চুরির আগেরটাও তিনি করেছিলেন দলের চরম বিপদে।
পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজার মতে, অনেক অনেকদিন মনে রাখার মতো বিশ্বমানের সেঞ্চুরি। আরেক পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার সেকান্দার বখত বলছিলেন, বাংলাদেশের মোট রান থেকে লিটনের রান বাদ দিয়ে ভাবুন কী মানের ব্যাট করেছেন তিনি। আর কোন ব্যাটার যেখানে ৩০ রানও করেননি, সেখানে দলের বিপদ আর মুভমেন্ট সামলে করেছেন ১২৬ রান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ২৭৮ রানে, যার মধ্যে ১২৬ রানই এনেছেন লিটন। ১৬ চার, ২ ছক্কার ইনিংস থামার খানিক পর অলআউট হয় বাংলাদেশ।
লাঞ্চের কয়েক মিনিট পর এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১১৬ রান। দল পড়েছিল চরম বিপদে। অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল প্রবল। কঠিন ওই পরিস্থিতিতে নান্দনিক পসরায় লিটন দাঁড়িয়ে যান বুক চিতিয়ে। কখনো প্রতি আক্রমণ, কখনো প্রান্ত আগলে রাখার হিসেব কষে করতে থাকেন লড়াই। তিন টেল এন্ডারকে নিয়ে যোগ করেন ১৬২ রান! যার বেশিরভাগটাই তার একার অবদান।
তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০, তাসকিনের সঙ্গে ৩৮ ও শরিফুলকে নিয়ে লিটন যোগ করেন ৬৪ রান। দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার অবস্থা থেকে বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় আড়াইশো।
লিটন যেদিন খেলেন দেখার মতো অনেক কিছুই থাকে। এদিনও তার ভিন্নতা ছিল না। দুরন্ত কাভার ড্রাইভ, স্টেপ আপ করে স্পিনারকে উড়িয়ে দেওয়া, পুলে বল পাঠিয়ে দেওয়া গ্যালারিতে। দুবার অবশ্য সুযোগও দিয়েছেন তিনি। ৩৩ রানে তার তীব্র গতির শট বোলার সাজিদ খান ধরতে পারেননি। ৫২ রানে লিটন জীবন পান পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়ায়। খুররমের বলে পুল করতে গিয়ে পরাস্ত হলে কট বিহাইন্ডের আবেদন সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নেয়নি পাকিস্তানও, পরে রিপ্লেতে দেখা যায় রিভিউ নিলে সফল হতো তারা।
তবে সেসব তো খেলারই অংশ। জীবনটা কাজেও লাগাতে হয়। লিটন বাকি সময়টা ছিলেন আকর্ষণের কেন্দ্রে। ফিফটির পর তিন অঙ্কে যেতে সময় নেননি বেশি, ভুলও করেননি। বরং টেল এন্ডারদের আগলে রাখতে অনেকগুলো সিঙ্গেল রিফিউজ করতে হয়েছে তাকে। সেসব যোগ করলে আরও কমপক্ষে ২০ রান তো পেতেনই।
টেস্টে লিটনের ছয় সেঞ্চুরির তিনটাই এলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুটোই আবার দলের ভীষণ বিপদে। রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর করেছিলেন ১৩৮ রান, সেবার অবশ্য অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গী পেয়েছিলেন। এবার ১১৬ রানে ৬ উইকেট পড়ার অবস্থায় করলেন ১২৬, এবার পুরোটাই টানলেন লেজের ব্যাটারদের সামলে রেখে। লিটনের এই সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ।