রোগী মৃত্যুর অভিযোগে শরীয়তপুরে হাসপাতাল ভাঙচুর, চিকিৎসককে পিটিয়ে আহত
চিকিৎসাধীন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে ওই চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে জরুরি বিভাগে আসেন। সেসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু, রোগীর স্বজনরা তাকে হাসপাতালেই ভর্তি রাখেন। পরে রাতে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা চিকিৎসককে ডাকার জন্য জরুরি বিভাগে যান। এর মধ্যেই রাত ১টার দিকে লাল মিয়া মারা যান।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাসিরকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ওই চিকিৎসককে বাঁচাতে গিয়ে কর্তব্যরত কয়েকজন আনসার সদস্য আহত হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা হঠাৎ করেই জরুরি বিভাগে হামলা চালান। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।'
'সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার সময় কর্মরতদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, অন্তত ১০০ জন মিলে ডা. নাসিরের ওপর হামলা চালিয়েছে,' বলেন তিনি।
হামলার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার রওনক জাহান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোগীর স্বজনরা এক চিকিৎসককে মারধর করে আহত করেছেন। রোগীর হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে বেশ কয়েকজন ওই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায়। আমরা হামলাকারীদের চিহ্নিত করেছি।'
'হামলার উসকানিদাতাকে গতকাল গভীর রাতেই আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে,' বলেন তিনি।
আটক আলামিন ছাত্রদলকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের এক সহ-সভাপতি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আটক আলামিন মিছিল-মিটিংয়ে থাকে, তবে তার কোনো পদ নেই। চিকিৎসকের ওপর হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে কখনোই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হবে না।'
যোগাযোগ করা হলে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, 'এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।।'
তবে, আহত চিকিৎসককে দেরি করে ঢাকায় নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।