সেঞ্চুরি কাছে গিয়ে ‘অনেক টেনশনে’ ছিলেন লিটন
৯৯ থেকে ১০০ রানে যেতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেশ খানিকটা অপেক্ষা করতে হয় লিটন দাসকে। শরিফুল ইসলামের আউট থেকে বাঁচতে রিভিউ, পায়ে টান, পানি পানের বিরতি মিলিয়ে স্নায়ুচাপ ঘিরে ধরেছিল দারুণ খেলতে থাকা লিটনকে। অবশ্য পরে স্ট্রাইক পেয়ে কাভার দিয়ে পাঞ্চ করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান তিনি। দিনের খেলা শেষে জানালেন সময়টা তাঁর জন্য ছিল অনেক টেনশনের।
সিলেটে শনিবার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন লিটনময়। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারালে ত্রাতা হয়ে ওঠেন লিটন। টেলএন্ডারদের নিয়ে দলকে নিয়ে যান ২৭৮ রানে, খেলেন ১২৬ রানের ঝলমলে ইনিংস।
সেঞ্চুরির পথে তখন লিটন দাস ব্যাট করছিলেন ৯৮ রানে, সাজিদ খানের বলে কাভার দিয়ে মেরে দুই রান নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আসেনি এক রানের বেশি। ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে এরপর বেশ খানিকটা অপেক্ষা। শরিফুল ইসলামকে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ আউট দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। সেই রিভিউতে শরিফুল বেঁচে যান, পরে তাঁর পায়ে টান পড়ায় আবার অপেক্ষা। এর মাঝেই চলে পানি পানের বিরতি। সব মিলিয়ে সেঞ্চুরির জন্য স্নায়ুচাপ ভর করে লিটনের ওপর।
দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক টেনশনে ছিলাম বিশেষ করে যখন শরিফুলের পায়ে লেগেছে আরকি। আমি ওকে বারবার বলছিলাম যে সামনে খেলার জন্য কারণ ও তো অনেক লম্বা, কাজেই ব্যাক অব লেংথে গেলে এই বলটা পায়ে লাগার চান্স বেশি। কিন্তু ও খুবই ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’
তিন টেলএন্ডারকে নিয়ে সপ্তম, অষ্টম ও নবম উইকেটে ৬০, ৩৮ ও ৬৪ রান যোগ করেন লিটন। শরিফুলের সঙ্গে ৭৩ বলের জুটিতে ৬৪ রানের ৫১ রানই এসেছে লিটনের ব্যাটে, সেটাও আবার তিনি নিয়েছেন স্রেফ ৪৩ বলে। লেজের ব্যাটারদের আগলে রেখে দ্রুত রান বাড়িয়ে দলকে যতটা পারা যায় স্বস্তির জায়গায় নেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
সেঞ্চুরির কাছে যাওয়া লিটনকে আটকাতে বাউন্ডারিতে ফিল্ডার বাড়িয়েছিল পাকিস্তান। তাঁর মাঝেই বাউন্ডারিতে বল পাঠানোর গ্যাপ খুঁজে নেন তিনি। সেজন্য বল বুঝে খেলার দিকে মন দেন তিনি, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম যে সামনের (লেন্থে) বলটা আমার জন্য রান করাটা কষ্টকর। আমিও চাচ্ছিলাম তারা ব্যাক অব লেংথে বল করুক যেটা আমি স্কোরিং অপরচুনিটি করতে পারি। এবং ওরা করেছে। আপনি যদি দেখেন পেস বোলিংয়ে মোস্ট অব রান আমার ব্যাক অব লেংথের বলে এসেছে।’