কাপাসিয়ায় ৫ জনকে হত্যা: অভিযুক্তের মরদেহ পদ্মায় উদ্ধারের দাবি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৩ শিশু ও মাসহ ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্তা মো. ফোরকান মোল্লার (৪০) মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আজ শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মরদেহটি উদ্ধার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কাপাসিয়া থানার একটি দল মাওয়া এলাকায় অভিযানে রয়েছে। সেখানে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।'
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক মো. যুবায়ের জানান, সকালে পদ্মায় একটি মরদেহ ভেসে যাওয়ার খবর পায় পুলিশ। পরে বিকেলে মাওয়া নৌ-পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
যোগাযোগ করা হলে মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মরদেহটিতে পচন ধরেছে। তবে, সেটি কাপাসিয়ায় হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জব্বার।'
'ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে,' যোগ করেন তিনি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গত ১১ মে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।'
এর আগে, ৯ মে ভোরে গাজপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মোল্লা পলাতক ছিলেন।
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তাদের সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক মো. রসুল মোল্লা (২২)।
এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা মো. শাহাদাত মোল্লা মামলা করলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তকাজে নামে।
এসপি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ১১ মে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মেহেরপুর সদর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, একটি ট্রাকের হেলপার পদ্মাসেতুর মাঝামাঝি এলাকায় রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিয়ে নেন।
'পদ্মাসেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, ১১ মে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজন একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট সেখানে অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মায় ঝাঁপ দেন। তদন্তে ওই ব্যক্তিকে ফোরকান মোল্লা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে,' বলেন এসপি।


