দর্শকহীন পিএসএল শুরু, নেই আতশবাজি-উল্লাস
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট লিগগুলোর একটি হলেও এবারের উদ্বোধনে ছিল না সেই চিরচেনা জৌলুশ। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পুরো আয়োজনজুড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আয়োজকরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচ, আর ছয় ভেন্যুর বদলে খেলা সীমাবদ্ধ থাকবে মাত্র দুটি মাঠে।
এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকারের কড়াকড়ি আর্থিক নীতিও এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর ফলেই বাতিল হয়েছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গত বছর যেখানে আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়েছিল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, এবার সেখানে দেখা গেল শুধুই সবুজ-সাদা খালি আসনের সারি।
মাঠের বাইরেও ছিল অস্বাভাবিক দৃশ্য। দর্শকদের কোলাহলের বদলে স্টেডিয়ামের চারপাশে ছিল সশস্ত্র পুলিশ ও সেনাদের উপস্থিতি। ভেতরে মাঠকর্মীরা পিচ প্রস্তুত করছেন, টিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে—কিন্তু নেই সেই প্রত্যাশা আর উত্তেজনায় ভরা পরিবেশ।
৪৪ ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট, যেখানে অংশ নিচ্ছে আটটি দল, চলবে ৩ মে পর্যন্ত। তবে শুরুটা হয়েছে অনেকটা নিঃশব্দেই। প্রথম ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স সহজেই ৬৯ রানে হারিয়েছে হায়দারাবাদ কিংসম্যানকে।
দর্শক না থাকায় হতাশ ভক্তরাও। ৪০ বছর বয়সী সমর্থক নাদিয়া তুফাইল বলেন, স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। 'মানুষের ভিড়, চিৎকার-উল্লাস, সব মিলিয়ে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। বাসায় বসে সেটা পাওয়া যায় না,' বলেন তিনি। যদিও পরিস্থিতির কারণে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তিনি বুঝতে পারছেন, তবুও এমন নীতি যেন নিয়মিত না হয়, সেই প্রত্যাশা তার।
খেলোয়াড়রাও অনুভব করছেন এই শূন্যতা। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, 'দর্শক ছাড়া খেলাটা আমাদের জন্যও ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তাদের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়, একটা আলাদা আবহ তৈরি করে।'
তিনি আরও যোগ করেন, দর্শকরা যেন টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দলগুলোকে সমর্থন দেন, এটাই এখন বড় ভরসা।
ইরফান খান নিয়াজিও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, 'দর্শক ছাড়া খেলার আনন্দ পূর্ণতা পায় না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সেটাই মেনে নিতে হচ্ছে।'