তিস্তার পানির ঢলে ধসে গেছে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সড়ক
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চারদিক ভারতবেষ্টিত দহগ্রাম ইউনিয়নে যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ সড়কের একটি অংশ তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ধসে গেছে।
বুধবার রাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় আকস্মিক ঢলে আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম সড়কের প্রায় ১০-১২ মিটার অংশ ভেঙে যায়।
এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের আঙ্গরপোতা, ভাটিয়াটারী, আশ্রয়নপাড়া, জিরো লাইন, সীমান্তপাড়া ও ইসলামপাড়াসহ অন্তত ছয় গ্রামের ৪ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সরু একটি বিকল্প পথ দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন।
খবর পেয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নদীতে আকস্মিক ঢল নেমে তীব্র স্রোত সড়কটির ওপর আঘাত করতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। বর্তমানে ভাঙা অংশ দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
ধসে যাওয়া সড়কটি দিয়েই দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সদর, জেলা শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত করেন।
আঙ্গরপোতা গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান আলী (৪৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সড়কটি ধসে যাওয়ার পর আমরা সরু একটি বিকল্প পথ দিয়ে হেঁটে চলাচল করছি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে লোকালয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতো।'
সীমান্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা সহিদার রহমান (৫০) বলেন, 'বুধবার রাতে মোটরসাইকেলে দহগ্রামে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় দেখি সড়কটি ধসে গেছে। পরে স্থানীয় একজনের বাড়িতে মোটরসাইকেল রেখে হেঁটে বাড়ি ফিরেছি।'
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তিস্তার প্রবল স্রোত ও নদীভাঙনের কারণে দহগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ে। স্থায়ী নদীশাসন ও সড়ক সুরক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বারবার ঘটছে। দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভাঙা অংশে অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।'
জানতে চাইলে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, 'সড়কের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে এখনো পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।'