শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: জবি, চবি ও ইবিতে তদন্ত কমিটি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৬৮ শিক্ষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একই অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) অভিযুক্ত শিক্ষকদের শনাক্তে তিন সদস্যের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে এসব কমিটি গঠন করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জবির রেজিস্ট্রার দপ্তরের জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমদকে কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন কর্মকর্তা মো. আবুল মালেককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল আলম সওদাগর।

আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনজুরুল হকের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য ড. মো. এমতাজ হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে আছেন—আল–হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাজ্জাত হোসেন।

কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ–হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ও সহউপাচার্য ড. মো. এমতাজ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।’

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ উঠেছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বৈঠক করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

রাষ্ট্রবিরোধী ও জনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষকদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফুল আজম খানকে সদস্য সচিব ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মো. কামরুল হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের অপতৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ৫৫(৩) ধারা এবং ‘চিটাগং ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ (ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) স্ট্যাটিউটস’ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অসদাচরণ, অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে দ্য ডেইলি স্টারের জবি, কুষ্টিয়া ও চবি সংবদদাতা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন)