বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, লালমনিরহাটের চর ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টা থেকে হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক শুন্য মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার থেকে ১৫ সেন্টিমিটার নিচে।

৩ ঘণ্টার ব্যবধানে পানি বেড়ে দুপুর ৩টায় ৫২ দশমিক ১৬ মিটারে পৌঁছায়।

বন্যা
নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ছবি: স্টার

ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং কৃষকদের আমন বীজতলা ও পাকা ধানের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, 'ভারী বৃষ্টিপাত না থাকলেও উজানে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।'

'পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে ঢল অব্যাহত থাকলে বুধবার সকাল নাগাদ তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে,' বলেন তিনি।

নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ডেইলি স্টারকে জানান, দুপুরের পর থেকে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে।

তিনি বলেন, 'অনেক জায়গায় আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। আলু তোলার পর যে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছিল, তারও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পাকা ধানের খেত ডুবে গেছে। নদীর পানি এখনো বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নৌকার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে।'

ডাউয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক মহিবর রহমান (৬০) জানান, তার এক বিঘা জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, 'বুধবার ধান কাটার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় আজ দুপুরেই তাড়াহুড়ো করে ধান কেটে নিয়েছি। এখনো বাড়িতে আছি, তবে পানি আর একটু বাড়লে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাব।'

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, 'মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তিস্তার পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।'

তিনি বলেন, 'আমাদের চর ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। গ্রামের অনেক রাস্তা পানির নিচে চলে গেছে। এখনো ঘরের ভেতরে পানি ঢোকেনি, তবে আর একটু বাড়লেই ঢুকে যাবে। গবাদিপশু, খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান ডেইলি স্টারকে জানান, কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে। তবে উজানে তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় কুড়িগ্রাম অংশেও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, 'বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলছে।'

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানান, 'জেলার বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে তা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।'