মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে দম্পতি ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার
মাদারীপুর সদর উপজেলার আত্মীয়ের বাসা থেকে স্বামী–স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার গভীর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার ওই বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে মুঠোফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে আমরা খবর পাই। দেড়টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি চিন্ময় দাস নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ৬ থেকে ৮ মাস বয়সী শিশু সন্তানের মরদেহ রশিতে ঝুলছে।
তিনি আরও বলেন, বিছানার পাশেই চিন্ময়ের স্ত্রী ইশা দাসের মরদেহ পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, স্ত্রীকে হত্যার পর চিন্ময় তার শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, চিন্ময় দাসের আত্মীয় ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈয়ের স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈয়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আমরা মিষ্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। তদন্ত সাপেক্ষে এবং ময়নাতদন্তের পর আমরা নিশ্চিত হতে পারব, এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যে ঘরে মরদেহ পাওয়া গেছে, সেই ঘরের ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। তিনটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাড়িতে প্রায় তিন বছর ধরে ভাড়া থাকতেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী যতীন বাড়ৈয়ের স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ।
রোববার বিকেলে চাচাতো ভাই পরিচয়ে চিন্ময় দাস তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় আসেন। পরে রাত গভীর হলে মিষ্টি বাড়ৈয়ের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ঘরের দরজা ভেঙে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।