‘বুলডোজার কখনো প্রশাসনের ভাষা হতে পারে না’

স্টার অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জায়গায় বুলডোজার চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি প্রশাসন। 

এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করেন, বুলডোজার চালিয়ে রাজ্য শাসন সম্ভব নয়। 

আজ সোমবার ভারতের গণমাধ্যম হিন্দু ও স্টেটসম্যানে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা হাতে পেয়েই ‘বুলডোজার রাজনীতি’ শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

রবিবার রাতে দেওয়া বিবৃতিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির (সুভাষচন্দ্র বসু) এই ভূমিকে ভয় বা জোর খাটিয়ে শাসন করা যাবে না।’

সামাজিক মাধ্যম এক্স ও ফেসবুকে ইংরেজিতে বক্তব্য পোস্ট করেন মমতা। তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে বাংলা বক্তব্য পোস্ট করা হয়। 

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি,  গত কয়েকদিনে হাওড়া, শিয়ালদহ, সোনারপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় বুলডোজার চালিয়ে ‘গরীব মানুষের দোকান ভাঙচুর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’। 

অপরদিকে, সরকারের দাবি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পশ্চিমবঙ্গকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। 

মমতা বলেন, ‘বাড়িঘর থেকে শুরু করে ফুটপাথের দোকান, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে গরিব মানুষকে। বাংলা কখনোও বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রবীন্দ্রনাথ এবং নেতাজির এই পুণ্যভূমিতে সাধারণ মানুষদের উপর ভয় দেখিয়ে, বলপ্রয়োগ করে বা উচ্ছেদ অভিযানের নামে শাসন করা যায় না।’

‘আজ আমরা যা দেখছি তা হল, বাংলার মানুষের মর্যাদার উপর এক আঘাত। হাওড়া স্টেশনের আশেপাশে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চলছে। তিলজলা ও পার্ক সার্কাসের রাস্তায় ফেটে পড়া অস্থিরতা ও ক্ষোভ, এবং হঠাৎ আশ্রয় ও জীবিকা থেকে বঞ্চিতদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা, সরকারের এমন একদিক তুলে ধরছে যা বুঝিয়ে দিচ্ছে মানবতার চেয়ে লোকদেখানো আচরণে বেশি মগ্ন’, যোগ করেন তিনি। 

মমতা আরও বলেন, ‘আচমকা মাথা গোঁজার ঠাঁই ও রুজি-রুটি হারানো মানুষের তীব্র হাহাকার প্রমাণ করে যে এই সরকার মানবতার চেয়ে বাহ্যিক আড়ম্বর দেখাতে বেশি ব্যস্ত’।

‘যে সরকার আগে ঘর ভাঙে এবং পরে কথা শোনে, তারা বাংলার আবেগ, চেতনাকেই ভুলে গেছে। প্রকৃত উন্নয়ন বা অগ্রগতির বিচার হয় একটি রাজ্য তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে তা দিয়ে, কত দ্রুত তাদের মুছে ফেলা হচ্ছে, তা দিয়ে নয়। সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা একটি রাজ্যে বুলডোজার কখনো প্রশাসনের ভাষা হতে পারে না’, বলেন তিনি। 

 ‘বুলডোজার কাণ্ডের’ পর কলকাতার পার্ক সার্কাসের রাস্তায় বিক্ষোভ হয়। 

বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা কর্মীদের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। 

এতে একাধিক কর্মকর্তা আহত হন। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা করে। 

কর্মকর্তারা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে উপস্থিত জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধের চেষ্টা চালায়। পুলিশ এই ‘অবৈধ’ জমায়েত বন্ধ করার উদ্যোগ নিলে তাদের দিকে বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে। 

এতে একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশের অন্তত তিন কর্মকর্তা আহত হন।