কমতে পারে ডায়ালাইসিস-হার্টের রিংয়ের খরচ

তুহিন শুভ্র অধিকারী
তুহিন শুভ্র অধিকারী
মো. আসাদুজ্জামান
মো. আসাদুজ্জামান

কিডনি ও হৃদরোগীদের জন্য সুখবর আসছে। আগামী বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিসের সরঞ্জাম এবং করোনারি স্টেন্টের (হার্টের রিং) ওপর থেকে কিছু কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে চিকিৎসার ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের ওপর থাকা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় খরচ কমিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ মোট ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে।

এ ছাড়া হার্টের রিং বা স্টেন্টের ওপর সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পদক্ষেপ হৃদরোগের চিকিৎসার খরচ হ্রাস করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ১৪ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলোতে নীতিগত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে এনবিআর আগামী বাজেটের জন্য প্রস্তাবিত কর ব্যবস্থার তথ্য উপস্থাপন করে।

কাস্টমসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ২৫২ কোটি টাকার হৃদরোগ ও কিডনি চিকিৎসার সরঞ্জাম আমদানি করেছে।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনবিআর এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করে এবং এতে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আসন্ন বাজেটে ওষুধ ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রণোদনা থাকবে, বিশেষ করে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সহায়তার জন্য।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইসিভিডি) পরিচালক অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, এর ফলে স্টেন্টের দাম কিছুটা কমবে, যা সরাসরি রোগীদের উপকারে আসবে।

তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্টেন্টের দাম একই থাকলেও হাসপাতালভেদে সার্ভিস চার্জ বা সেবা মূল্যের পার্থক্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্টেন্টের দাম সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। সরকারি হাসপাতালে আনুষঙ্গিক সেবা খরচ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হলেও বেসরকারি হাসপাতালে এই খরচ প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

অধ্যাপক ওয়াদুদ গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দেশে প্রতি বছর ৩৫ হাজারেরও বেশি রোগীর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বা রিং বসানো হয়।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ফরহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা—বিশেষ করে ডায়ালাইসিস অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ডায়ালাইসিস মেশিনের ওপর থেকে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হলে ডায়ালাইসিস খরচ কিছুটা কমতে পারে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হয় এবং এতে প্রচুর ফ্লুইড, স্যালাইন ও ব্লাড ব্যাগের প্রয়োজন হয়। সরকার যদি এসব প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম কমানোর উদ্যোগ নেয়, তবে চিকিৎসার ব্যয় আরও কমে আসবে।

ফরহাদ জানান, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে প্রতিটি ডায়ালাইসিস সেশনের জন্য একজন রোগীকে ৪০০ টাকা দিতে হয়, যেখানে সরকার সেশনপ্রতি তিন হাজার টাকার বেশি ভতুর্কি দেয়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিটি সেশনের খরচ ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মতো।

তিনি আরও যোগ করেন, দেশে প্রতি বছর নতুন করে ২০ থেকে ৩০ হাজার কিডনি রোগী শনাক্ত হচ্ছে, যাদের ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় বেশিরভাগ রোগীকেই জীবন বাঁচাতে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হয়।