জ্বালানিতে ভর্তুকির বাইরেও লাগবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, বাড়বে বাজেট ঘাটতি: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে, অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলবে।’
আজ শুক্রবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজের দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।’
এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস আদালত ৫টার পরিবর্তে ৪ বন্ধ করা; দিনের আলো ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক লাইট ব্যবহার কমানো ও এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ; মার্কেট-শপিং মল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা; বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ভর্তুকির অর্থ যথাসময়ে ছাড়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজেটে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সহনীয় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার আপাতত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’



