গভর্নর নিয়োগ নিয়ে সংসদে বিরোধীদলের আপত্তি, যা বললেন অর্থমন্ত্রী
সরকার গত ২ মাসে যে কাজগুলোতে হাত দিয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলের আপত্তির মুখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং অর্থমন্ত্রী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো; আমি বেসিক জায়গা বলেছি, কোনো কার্ড—এগুলো বলি নাই। নীতিগত যে জায়গাগুলো—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে যে কাজটা করা হয়েছে এবং সাবেক গভর্নরকে বিদায় দেওয়ার যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, জাতি এটা দেখেছে।’
‘এ পর্যন্ত যেসব জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো জনগণ এবং গণতন্ত্র কোনোটাই সমর্থন করে না। এমনকি খেলার মাঠ পর্যন্ত আমরা উন্মুক্ত রাখতে পারলাম না। ওখানেও গিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লাম। মন্ত্রী (অর্থমন্ত্রী) যেটা বললেন, যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় না দিলে দেশ আগাবে কীভাবে? এভাবে যদি যোগ্য মনোনীত হয়—আমার প্রশ্ন, দেশ আগাবে কীভাবে? কার উদ্দেশ্য কী আমরা তো সেটা দেখতে পারবো না! এটা মনের ব্যাপার,’ যোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দেখবো প্রকাশটা কী, বাস্তবায়ন, কীভাবে সমাজে প্রভাব ফেলছে। এই প্রতিফলনে আমরা শঙ্কিত, এভাবে সব কিছুকে রাজনীতিকরণ করা...ক্ষেত্র বিশেষে গোষ্ঠী-পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে এগোলে এ দেশ তো আগাবে না! আমরা সবাই মিলে চাই দেশটা এগিয়ে যাক। এ পর্যন্ত সে রকম দৃশ্যমান কোনো কিছু আমাদের কাছে নেই।’
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক-সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো নিয়োগ হয়েছে, সবগুলো অরাজনৈতিক। যে কারণে বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলায় বিএনপি সরকারের সময়ে কোনো সমস্যা হয় নাই। সব সময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় ছিল। কোনো সময় শেয়ারবাজার লুটপাট হয় নাই। কারণ বিএনপির নিয়োগগুলো কখনোই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয় নাই এবং যোগ্য ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারা এই সরকার অব্যাহত রাখবে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে চাই।’
‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নয়, সে একটা দলের সমর্থক হতেই পারে। কিন্তু তার যদি যোগ্যতা থাকে, তার নিয়োগে অসুবিধাটা কোথায়,’ প্রশ্ন রাখেন অর্থমন্ত্রী।
বিরোধীদলকে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে খসরু আরও বলেন, ‘সে যদি দলীয় কোনো কিছু...এভাবে যদি আপনারা লক্ষ করেন প্রভাবিত হয়েছে, তখন আপনি বলতে পারবেন। তুলনামূলকভাবে তার পারফরম্যান্স আমরা যেটা দেখছি, অতীতের যে কোনো গভর্নরের চেয়ে অনেক ভালো।’
আরেক আপত্তি প্রসঙ্গে খসরু বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যখন গভর্নরের বয়স বাড়িয়েছে, সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি তোলেননি! গভর্নরের বয়স আমরা বাড়াইনি। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাড়ানো হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। উনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, বাংলাদেশে কোনো সরকার এই সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিগত দিনের ইতিহাসে নেই বাংলাদেশে।’
আগামী দিনে আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ হয় কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান খসরু।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বর্তমান গভর্নরের একটি পরিচয় কিন্তু আছে; বিএনপির যে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি হয়েছিল, আমি যতদূর জানি, উনি এই কমিটির সদস্য ছিলেন। সুতরাং তথ্যগত যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, এটা মনে হয় দূর হওয়া উচিত এবং উনার যদি এ রকম পরিচয় থাকে, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের আলোকে উনাকে গভর্নর পদ থেকে বাদ দিয়ে একজন যোগ্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হোক।’
এরপর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, দলকে সমর্থন করা মানেই দলের লোক না। কোনো দলকে সমর্থন করে নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করা মানে দলের লোক না। নিশ্চয়ই অনেক লোক আপনাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করেছেন, যারা আপনার দলের লোক না। নিশ্চিতভাবে আমি বলতে পারি, এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এটাকে যদি দলীয় জায়গায় নিয়ে আসেন, দলের সমর্থক দলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তো অনেকেই অংশগ্রহণ করেছে!’
‘এই গভর্নরের বাইরে আরও হাজার হাজার, শত শত লোক করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের যে কর্মযজ্ঞ, এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখানে যারা আপনার (দলের) মতাবলম্বী, আপনাকে (দলকে) সমর্থন করে, তারা আপনাকে (দলকে) সহযোগিতা করতে পারে নির্বাচনে। এটা অর্থ এই না যে, তারা বিএনপির সদস্য। উনার কোনো সদস্য পদ নাই, প্রাথমিক সদস্য পদ নাই, দলের কোনো সদস্য পদ নাই। আপনারা (বিরোধীদল) যদি সুযোগটাকে এর থেকে বেশি নিয়ে যান, তাহলে কোনো জায়গায় কোনো লোক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না বাংলাদেশে,’ যোগ করেন তিনি।