‘উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি’ হাসনাতকে উদ্দেশ্য করে আইনমন্ত্রী
বিএনপির চেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পরে আর কেউ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরের মধ্যে অনেকেই ১৭ বছর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। অনেকের পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার কী জিনিস অনেকে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।’
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ পুনঃপ্রচলন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রোহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন বিল ২০২৬ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার’ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের বয়স ৪২ দিন হয়ে গেছে। এই সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারতো। ৪২ দিনে বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি। একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। সকাল দেখে বিকেল বোঝা যায়। এই সরকার মানবাধিকারের কোন পথে হেঁটে যাবে, মানবাধিকারের এই রেকর্ড বলছে, আমরা সেই পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।’
বিল নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্য খুব সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব, ঢাকার রাজপথ, মুক্তাঙ্গনের জন্য অনেক বেশি জুসি। অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।’
এ সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ পুনঃপ্রচলনের ব্যাখ্যা দেন আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মনে হয়, উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি। বিলের প্রথম লাইনেই দেওয়া আছে, যেহেতু মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। যাতে করে মানবাধিকার কমিশনের জায়গাটা ফাঁকা না থাকে, সেই কারণে আপাতত আমরা ২০০৯ সালের আইনটাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। কেউ যাতে বলতে না পারে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন নাই। সব পড়লাম আর প্রথম লাইনটাই পড়লাম না যে, অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।’
অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫ এর অধ্যাদেশের দুটি প্রয়োগ আছে। একটি হলো, আমরা যখন কোনো আইন করি, অ্যাকশন নেই সেটা যদি এমন হয় যে, কাজটির সঙ্গে আল্টেরিয়র মোটিভ (অস্পষ্ট বা আড়ালে থাকা উদ্দেশ্য), ম্যালাফাইড মোটিভ (অসৎ উদ্দেশ্য) থাকে; যদি এমন হয় বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, তাকে কোনোভাবেই কাজ করতে দেওয়া হবে না। সে ধরনের উদ্দেশ্যপূর্ণ আইন যদি থাকে—এটি প্রাথমিক আইনের লঙ্ঘন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অধ্যাদেশের ১৬ ধারায় দেখবেন, এটি ভিক্টিমের জন্য আরেকটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এখানে বলা আছে, মানবাধিকার কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে ও কারও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখতে পারবে। অভিযোগ আমলে নেওয়ার কত দিন পরে তদন্তে পাঠাবেন তার কোনো গাইডলাইন নেই। যেদিন পাঠাবেন, সেদিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান হবে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মানবাধিকার সংস্থা আরও একটি তদন্ত করবে। কত দিনের মধ্যে করবে সেটির গাইডলাইন নাই। দুটি প্রতিবেদন হাতে এলে দুই পক্ষকে ডাকে বক্তব্য শোনার পর চারটি কাজ করতে পারবে—জরিমানা করতে পারবে, কিন্তু কত টাকা, কীভাবে আদায় হবে, কোন আইনে হবে তার বিধান নাই। কমিশন সুপারিশ করবে ভিক্টিম মামলা করতে পারবেন নাকি কোনো জায়গায় ধর্না দিতে পারবেন। দুই বছর ঘুরে আমি মামলা করতে পারবো কি না জানার জন্য মানবাধিকার কমিশনে যাওয়ার দরকার নাই।’
‘আমাদের মতো যারা বটতলার উকিল আছে, আমরাই বলতে পারি এটা মামলায় যাবে কি যাবে না। মানবাধিকার কমিশন বাদী হয়ে ভিক্টিমের পক্ষে মামলা করতে পারবেন। দুপক্ষকে শোনার পরে কমিশন যদি মামলা করেন সেটাকে কি রিজনেবল ল বলা যাবে? নিউট্রাল ল, জাস্ট অ্যান্ড প্রপার ল বলা যাবে? এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের সামনে আসে, তখন আমাদের বিলের প্রথম লাইনেই বলতে হয়, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন,’ যোগ করেন তিনি।
পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ গুম করা, সেই অভিযোগও তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে এসব অস্পষ্টতা থাকতে পারে না। আইন স্বচ্ছ হতে হবে, পরিষ্কার হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯ এর ৩ ধারা এবং ২০২৫ অধ্যাদেশের ৩ ধারা পড়লে দেখা যায়, দুটি আইনের অটোনোমাস ক্যারেক্টার একই। দুটি আইনেই বলা আছে, এই কমিশন কারও কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না। সুতরাং এত ভয় কীসের!’
