মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ নির্যাতনে হত্যা
বগুড়া শহরের সাবগ্রাম এলাকায় ‘মায়ের আশ্রয়’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় সামিউলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সামিউল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জনতা ব্যাংক শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শফিউল্লাহর ছেলে।
ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের দুই কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুভর ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামিউল মানসিক রোগী ছিলেন। আমরা সুস্থ অবস্থায় ভর্তি করেছিলাম। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।’
তবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিল্লুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সামিউল দীর্ঘদিন গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলে আসক্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডিটক্সিফিকেশনের জন্য গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ ও কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল দুপুরের পর থেকে সামিউল খাবার খাচ্ছিলেন না। ইফতারের সময়ও তিনি কিছু খাননি। পরে নিস্তেজ হয়ে পড়লে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি করার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিল্লুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ তদন্ত চলছে। যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ওসি মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাতেই দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।