চরে-জঙ্গলে ঘোড়া জবাই করে ‘গরুর মাংস’ হিসেবে বিক্রি করত চক্রটি
যমুনার চরাঞ্চল কিংবা গাজীপুরের জঙ্গলে রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া সংগ্রহ করে জবাই করে ঢাকায় এনে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির একটি চক্রের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।
এমন একটি চক্রের ৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গজারিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. রুবেল (৩৯), মো. সৌরভ (২১), মো. সোহেল গাজী (২১) ও মো. ইয়াছিন আরাফাত (২১)।
পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব ও বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চল ও গাজীপুরের বিভিন্ন জঙ্গলে অসুস্থ ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে পিকআপযোগে ঢাকায় নিয়ে যেতেন এবং সহযোগীদের মাধ্যমে তা গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করতেন।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন আনারপুরা এলাকায় ঘোড়া জবাইয়ের খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত মাংস ও একটি রুগ্ন ঘোড়া উদ্ধার করে তা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার হেফাজতে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন শিকদারের আবেদন করলে গজারিয়া থানা তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে অভিযান চালানো হয় বলে জানান এসপি মেনহাজুল আলম।
এসপি আরও জানান, গ্রেপ্তার রুবেল পেশায় একজন কসাই। রুবেলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছে। একটি দল সারাদেশ থেকে ঘোড়া সংগ্রহ করে। আরেকটি দল কসাইয়ের কাজ করে। তারপর নিজস্ব পিকআপে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


