পটুয়াখালীতে এবার ৩০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা
গত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ ক্রমশ লাভজনক হওয়ায় পটুয়াখালীর প্রায় সবগুলো উপজেলায় বিস্তীর্ণ জমিতে আগাম জাতের নানা আকারের তরমুজ দেখা যাচ্ছে। এবার কমপক্ষে ৭ হাজার একর বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তরমুজ উৎপাদন, পরিবহন, বীজ ও সংশ্লিষ্ট খাত মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
অন্যান্য মৌসুমের মতো এবারও তরমুজ চাষ ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। এই জেলায় পেশাদার কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কোথাও পরিপক্ব ফল তোলার অপেক্ষায়, কোথাও গাছে নতুন ফল ধরছে, আবার কোথাও চারায় ফুটেছে হলুদ ফুল।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের তরুণ চাষি মো. বেলাল মৃধা জানান, আগে তিনি একটি কীটনাশক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কাজের সুবাদে তরমুজ চাষ সম্পর্কে ধারণা পান। এবার চাকরি ছেড়ে নিজেই তরমুজ চাষে নেমেছেন।
প্রায় ৯ কানি (প্রায় ২৫ একর) জমির মধ্যে দেড় কানি জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। দ্য ডেইলি স্টারকে বেলাল বলেন, ‘অন্য জায়গায় পুরো ফলন আসতে এখনও সময় লাগবে, কিন্তু আমার ক্ষেতে তরমুজ এরই মধ্যে বড় হয়ে গেছে। ৮-১০ রমজানের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারবো।’
তরমুজ চাষে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বেলালের। অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে ১৪-১৫ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
বেলালের ভাই জাফর মৃধা বলেন, ‘সারাদিন মাঠে কাজ করে গাছে সুন্দর তরমুজ দেখে মন ভরে যায়। তবে তরমুজ চাষ অনেকটাই ভাগ্য ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনুকূল পরিবেশ থাকলে ভালো লাভ সম্ভব, আর প্রতিকূল হলে লোকসানের ঝুঁকিও থাকে।’
ধান কাটার পর ডাল বা মরিচের পরিবর্তে এখন তারা তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন বলে জানান আরেক চাষি আফজাল হোসেন।
তার ভাষায়, ‘আমাদের এলাকার তরমুজ স্বাদে আলাদা। ভেতরে টকটকে লাল, তাই বাজারে চাহিদাও বেশি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে দীর্ঘ সময় জমি পানির নিচে থাকা এবং নদীর জোয়ার-ভাটার ফলে পলিমাটি জমে উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম সার ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বর্তমানে তরমুজ উৎপাদনে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর একটি পটুয়াখালী। পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল, রাঙ্গাবালী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তরমুজের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। এখানকার অনেক তরমুজের ওজন ২০-২২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর জেলায় ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৮০ হেক্টরে। মৌসুমের শেষ দিকে এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের আবাদ বেড়েছে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।’
‘কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কুয়াশাজনিত পাতা পচা রোগ প্রতিরোধ ও অতিরিক্ত গরমে ফল ফেটে যাওয়া রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পাশে রয়েছেন বলেও জানান ড. আমানুল।