কুয়াকাটায় সামুদ্রিক কচ্ছপের ১৬৩ বাচ্চা উদ্ধার, মোহনায় অবমুক্ত
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুরবন বনাঞ্চল সংলগ্ন বালিয়াড়ি এলাকা থেকে সামুদ্রিক কচ্ছপের ১৬৩টি বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে একটি পরিত্যক্ত দোকানের নিচে বালুর ভেতর থেকে কচ্ছপের বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করা হয়।
পরে বনবিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে আন্ধারমানিক নদী সংলগ্ন মোহনায় সেগুলোতে অবমুক্ত করা হয়।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ সকালে নিজের দোকানের চারপাশ পরিষ্কারের সময় বালুর মধ্যে ছোট ছোট প্রাণীর নড়াচড়া দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বায়েজিদ। খবর পেয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
উদ্ধারকারীরা জানান, গর্তটির ভেতরে কচ্ছপের ডিমের খোসা ও সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, নিরিবিলি স্থান হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ আগে মা কচ্ছপটি সেখানে ডিম পেড়ে যায়। পরে ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বের হয়ে আসে। কিন্তু দোকানের কাঠামো ও বালুর বাধার কারণে তারা সাগরে যেতে পারেনি।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘আজ ১৬৩টি কচ্ছপের বাচ্চা নিরাপদে সাগরে ফিরতে পেরেছে, এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক খবর। তবে এদের অধিকাংশই প্রাকৃতিক নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হয়। তাই কচ্ছপ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে ও উপকূলজুড়ে নিয়মিত মনিটরিং বাড়াতে হবে।’
উদ্ধার হওয়া কচ্ছপের বাচ্চাগুলোকে সুস্থ অবস্থায় নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সামুদ্রিক কচ্ছপ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বনবিভাগ নিয়মিতভাবে কুয়াকাটা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি করছে, যাতে কচ্ছপের ডিম বা বাচ্চার কেউ ক্ষতি করতে না পারে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওছার হামিদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির প্রমাণ বহন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সবসময় সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’