কেরাণীগঞ্জে কারখানায় আগুন: আগেরদিন কাজে যোগ দেওয়া নীরব এখনো নিখোঁজ

রাকিব মাদবর
রাকিব মাদবর

কেরাণীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় গতকাল শনিবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আগেরদিন সেখানে কাজে যোগ দিয়েছিল ১৭ বছরের কিশোর নীরব ঢালী।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত তার খোঁজ পায়নি পরিবার।

গতকাল শনিবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

এ ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনের ঘটনায় আহত হন ১৫ জন।

নিখোঁজ নীরবের মামা শিপন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু নীরবের কোনো খোঁজ পেলাম না।'

'আগুন লাগার পর আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ নীরবের কোনো তথ্য দিতে পারেনি,' বলেন তিনি।

ওই কারখানার শ্রমিকরা জানান, এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। ওই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। পরে আবার কারখানা চালু করা হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, আগের অগ্নিকাণ্ডের পরও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো উন্নতি করা হয়নি।

অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা আলো রাণী দে ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগেরবার আগুন লাগার পর কিছুদিন পরেই আবার কাজ শুরু হয়। আমি দুই মাসের বেতন পাই। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ আমার ফোনও ধরে না।'

আজ সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনসহ অসংখ্য মানুষ কারখানার চারপাশে ভিড় করেছেন।

গতকাল বিকেল থেকেই নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে কারখানার বাইরে অনেকে অপেক্ষা করেন।

কারখানায় আগুন লাগার পর কোনোভাবে প্রাণ নিয়ে বের হয় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী। গত ৮ মাস ধরে সে ওই কারখানায় কাজ করছে। ডেইলি স্টারকে মেয়েটি জানায়, গতকালও সে কারখানায় কাজ করছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কারখানা থেকে বের হওয়ার জন্য দৌড় দেয়। কিন্তু গেটের কাছে পৌঁছে দেখে সেটি বন্ধ।

'কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বাইরে থেকে গেটটি খোলা হলে আমি নিরাপদে বেরিয়ে আসি,' বলছিল ওই কিশোরী।

শুধু এই কিশোরী নয়, আরও বেশ কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, কারখানার মেইন গেট তালাবদ্ধ থাকায় বের হওয়া কঠিন হয়। অনেককে বের হওয়ার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে থাকে।

কারখানার গেটের পাশে এক দোকানের কর্মচারী মো. মাহমুদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগুন লাগার সময় কারখানার গেট বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকজন বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আটকা পড়েন। আগুন লাগার পরপর এক মেয়েকে দৌড়ে গেটের কাছে আসতে দেখি।'

'আমি দারোয়ানকে গেট খুলতে বলি, কিন্তু সে রাজি হয়নি। ফলে তারা বের হওয়ার জন্য অন্য পথ খুঁজতে থাকে,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।