‘মা আজই প্রথম ওই কারখানায় গেল, আগুনের পর থেকে খুঁজে পাচ্ছি না’
ঢাকার কেরাণীগঞ্জে গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর কয়েকজন নিখোঁজ আছে দাবি করে সেখানে আসছেন স্বজনরা।
আজ শনিবার দুপুরে কদমতলী গোলচত্বর এলাকার ওই কারখানা থেকে উদ্ধার মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে নিহতরা নারী নাকি পুরুষ, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ভেতরে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, জানতে ফায়ার সার্ভিস অভিযান চালাচ্ছে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে মা মঞ্জু বেগমের খোঁজে কারখানার গেটে আসেন ২৫ বছর বয়সী মো. সাব্বির।
সাব্বির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মা আজই প্রথম ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন।'
তিনি বলেন, 'আমার বোন যে বাসায় থাকেন, সেখানকার একজন বাসিন্দা এ কারখানায় কাজ করেন। সকালে মা আসার পর আগুন লাগে। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না। এখনো মায়ের কোনো খোঁজ পাইনি।'
সাগর হোসেন নামে আরেকজন কারখানার কাছে এসে তার বোন শাহিনুর আক্তারের খোঁজ করছিলেন।
সাগর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার বোন এখানে কাজ করে। আগুনের ঘটনার পর থেকে তার ফোন বন্ধ। অনেক জায়গায় খুঁজেও এখনো তাকে পাইনি।'
ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর ১টা ১১ মিনিটে কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের মোট সাতটি ইউনিট দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আগুনের ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পরিবারের সদস্যরা এখন পর্যন্ত একজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছেন।'
কারখানায় আগুন লাগার পর কোনোভাবে প্রাণ নিয়ে বের হয় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী। গত ৮ মাস ধরে সে ওই কারখানায় কাজ করছে। ডেইলি স্টারকে মেয়েটি জানায়, আজও সে কারখানায় কাজ করছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কারখানা থেকে বের হওয়ার জন্য দৌড় দেয়। কিন্তু গেটের কাছে পৌঁছে দেখে সেটি বন্ধ।
'কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বাইরে থেকে গেটটি খোলা হলে আমি নিরাপদে বেরিয়ে আসি,' বলছিল ওই কিশোরী।
শুধু এই কিশোরী নয়, আরও বেশ কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, কারখানার মেইন গেট তালাবদ্ধ থাকায় বের হওয়া কঠিন হয়। অনেককে বের হওয়ার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে থাকে।
কারখানার গেটের পাশে এক দোকানের কর্মচারী মো. মাহমুদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আগুন লাগার সময় কারখানার গেট বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকজন বের হওয়ার চেষ্টা করলেও আটকা পড়েন। আগুন লাগার পরপর এক মেয়েকে দৌড়ে গেটের কাছে আসতে দেখি।'
'আমি দারোয়ানকে গেট খুলতে বলি, কিন্তু সে রাজি হয়নি। ফলে তারা বের হওয়ার জন্য অন্য পথ খুঁজতে থেকে,' বলেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
